খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসসহ কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সোমবার এই তথ্য জানান।
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, বৈঠকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অভিবাসন ও কূটনৈতিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বসহ আলোচনা করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করতে নিয়মিত বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন, কূটনৈতিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য এসপিইএআর প্রোগ্রাম এবং ইলেকট্রনিক ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন (ইএনভি) প্রবর্তনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র, বিশেষ করে সন্ত্রাস দমন ও নিরাপত্তা খাতে। 이에 মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ঢাকা ও অন্যান্য কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং এসপিইএআর প্রোগ্রাম কার্যকর করতে আগ্রহী। তিনি দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধে বাংলাদেশে ইএনভি প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশ অভিবাসন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন জোনে অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া, সন্ত্রাস দমন খাতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ৩০ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পেয়েছেন। তবে কর্মকর্তাদের অবসর ও বদলির কারণে প্রত্যাশিত ফলাফল পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সভা ও কর্মশালা আয়োজনের নির্দেশ দেন।
| নিরাপত্তা এলাকা | দায়িত্বশীল বাহিনী | নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধরণ | লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য |
|---|---|---|---|
| মার্কিন দূতাবাস | পুলিশ ও বিজিবি | নিয়মিত টহল ও প্রহরা | দূতাবাস নিরাপত্তা নিশ্চিত করা |
| কূটনৈতিক জোন | পুলিশ, বিজিবি ও বর্ডার গার্ড | কন্ট্রোল পয়েন্ট ও চেকপোস্ট | সন্ত্রাস ও অনুপ্রবেশ রোধ |
| অন্যান্য কূটনৈতিক মিশন | পুলিশ | টহল ও জরুরি সাড়া ব্যবস্থা | কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা |
| ইএসপিইএআর প্রোগ্রাম | স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও যুক্তরাষ্ট্র | তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থা | অপরাধ ও সন্ত্রাস দমন কার্যক্রম বৃদ্ধি |
মোটকথা, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঢাকার কূটনৈতিক এলাকা ও মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগের ফলাফল।