খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি তেলের বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মূল্যে নজিরবিহীন এক উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে প্রতি গ্যালন তেলের দাম গড়ে ১১ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমান বাজার মূল্যে ৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০০৫ সালে প্রলয়ংকরী হারিকেন ক্যাটরিনার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রে এক দিনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সর্বোচ্চ রেকর্ড। আজ মঙ্গলবার আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্যের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ করেছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির মূল কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা। সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলের রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে এবং আংশিক অবরোধ আরোপ করেছে। বিশ্ববাজারের তেলের মোট সরবরাহের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এছাড়া, ইরান প্রতিশোধমূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং কাতারের জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। এতে করে আরব দেশগুলোর তেল উত্তোলনের পর তা বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ব তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
নিচে মার্কিন বাজারে তেলের দাম ও বর্তমান অস্থিরতার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| সূচক/বিবরণ | বর্তমান পরিসংখ্যান | পূর্ববর্তী অবস্থা/রেকর্ড |
| প্রতি গ্যালন খুচরা মূল্য | ৩.১১ মার্কিন ডলার | ৩.০০ ডলার (২৪ ঘণ্টা আগে) |
| এক দিনে মূল্য বৃদ্ধি | ১১ সেন্ট | ২০০৫ সালের পর সর্বোচ্চ |
| প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল | ৭৬ মার্কিন ডলার | ৭০.৫ ডলার (৭% বৃদ্ধি) |
| আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব | অস্থির ও সরবরাহ সংকটে | স্থিতিশীল (সংঘাতের আগে) |
| প্রধান রুট বাধা | হরমুজ প্রণালী (আংশিক বন্ধ) | উন্মুক্ত ও স্বাভাবিক ছিল |
মঙ্গলবার মার্কিন বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা সোমবারও ৬ শতাংশ বেড়েছিল। ক্রমাগত এই উর্ধ্বগতি মার্কিন অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তেলের খুচরা মূল্য পাম্পগুলোতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপিটাল ইকোনমিকস’-এর প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ডেভিড অক্সলে বলেন, পাম্পে গ্রাহকদের যে খুচরা মূল্য দিতে হয়, তা আসলে তেলের আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের একটি নির্দিষ্ট ও ছোট অংশ। অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও স্থানীয় কর ও ভর্তুকি নীতির কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব তাৎক্ষণিক নাও পড়তে পারে।
তা সত্ত্বেও, সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবহন ও পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। যদি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় এবং হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৌশলগত রিজার্ভ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।