খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর আদাবর এলাকায় বেগম নূরজাহান মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিনকে বিদ্যালয়ের দারোয়ান ধলু শিকদার বেধড়ক পিটুনিতে আহত করেছে। ঘটনাটি বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে আদাবর রিং রোডস্থ বিদ্যালয়ে ঘটে। স্থানীয়রা আহত প্রধান শিক্ষককে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। পুলিশ অভিযুক্ত দারোয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, স্কুলের তিন কাঠার জমি দীর্ঘদিন ধরে ধলু শিকদার অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে তাকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে, আবার ২০২০ সালে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিখিত নোটিশ দিয়ে জমি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের পর বিদ্যালয় উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণের জন্য ওই জমির প্রয়োজন। জমি খালি না থাকলে সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করা সম্ভব নয়।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এক মাসের মধ্যে দারোয়ানকে জমি ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হবে। নোটিশের অনুলিপি স্থানীয় থানা, শিক্ষা অফিস ও জেলা শিক্ষা দফরে পাঠানো হয়।
প্রধান শিক্ষক বলেন, “আজ বিকেলে শিক্ষক সভার শেষে দারোয়ানকে আবার জমি খালি করতে বলা হয়। বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় তিনি এবং তার স্ত্রী আমার ওপর হঠাৎ আক্রমণ করে চড়-ঘুষি চালায়। আমি গুরুতর আহত হই।”
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার ঘটনায় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, ঘটনার দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত করছে।
| তারিখ | ঘটনা | পদক্ষেপ |
|---|---|---|
| ২০১৩ | দারোয়ানকে প্রথম নোটিশ | জমি খালি করতে বলা হয় |
| ২০২০ | পুনরায় লিখিত নোটিশ | ম্যানেজিং কমিটি নির্দেশ দেয় |
| ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শিক্ষক সভায় সিদ্ধান্ত | এক মাসের মধ্যে জমি খালি করতে নোটিশ প্রদান |
| ৪ মার্চ ২০২৬ | হামলার ঘটনা | প্রধান শিক্ষক আহত, দারোয়ান গ্রেপ্তার |
প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ অনুযায়ী, দারোয়ান এবং তার স্ত্রী একাধিকবার স্কুলের নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। বর্তমান ঘটনার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ মামলা তদন্ত ও বিদ্যালয়ের শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।