খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৭ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে আমানতকারীদের বিক্ষোভ থামছেই না। শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের একীভূত উদ্যোগে থাকা কিছু আমানতকারী সুদসহ সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের দাবিতে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তারা বিতর্কিত ‘হেয়ার কাট’ সিদ্ধান্ত বাতিলসহ তিন দফা দাবি তুলে ধরেছেন।
বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত আমানতকারীরা অংশ নেন। তারা অভিযোগ করেন, গত দুই বছর ধরে ব্যাংকগুলোর অর্থ উত্তোলনে বাধা থাকায় বহু পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সময় শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কেটে মাত্র চার শতাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তকে তারা অমানবিক ও অন্যায্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা আরও দাবি করেন, চুক্তি অনুযায়ী আমানতকারীদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার আছে।
বিক্ষোভকারীরা তাদের তিন দফা দাবিতে জোর দিয়েছেন—‘হেয়ার কাট’ বাতিল, চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফাসহ পুরো আমানত ফেরত এবং একীভূত ইসলামী ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন স্বাভাবিককরণ। এছাড়া মেয়াদ শেষে সঞ্চয় প্রকল্পের (এফডি, ডিপিএস, এমটিডিআর) অর্থ ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
নিচের টেবিলে তাদের মূল দাবিগুলো সংক্ষেপে দেখানো হলো—
| দাবির ধরণ | বিস্তারিত |
|---|---|
| হেয়ার কাট বাতিল | গত দুই বছরের মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল করা |
| সম্পূর্ণ আমানত ফেরত | চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফাসহ মূল অর্থ ফেরত |
| লেনদেন স্বাভাবিককরণ | একীভূত ইসলামী ব্যাংকের সব লেনদেন পুনরায় স্বাভাবিক করা এবং মেয়াদ শেষ সঞ্চয় ফেরত দেওয়া |
বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দ্রুত দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আলটিমেটাম দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে বারো মার্চ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোহাম্মদ মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, অতীতের সময়ে এই ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিন মার্চ গভর্নরের কার্যালয়ে পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই বার্তা দেন।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আমানতকারীদের আস্থা পুনঃস্থাপনের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় দেশের ব্যাংকিং খাতে জনবিশ্বাসের সংকট আরও গভীর হতে পারে।
যদি চাও, আমি চাইলে এই সংবাদটিকে আরও বিস্তারিত ৪৫০–৫০০ শব্দের সংস্করণে রূপান্তর করতে পারি, যেখানে প্রতিটি ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি এবং পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলোর প্রেক্ষাপটও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।