খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও উঁচুতে চড়ল। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে সীমান্ত সংঘর্ষে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই ইসরায়েলি পদাতিক বাহিনীর প্রথম বড় ধরনের প্রাণহানি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর ইরানে বিমান হামলার পর থেকেই লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। হিজবুল্লাহ এই হামলার প্রতিবাদে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত ও সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা জোরদার করে। পাল্টাপাল্টি জবাবে ইসরায়েলও দক্ষিণ লেবাননে তাদের বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের পরিধি বাড়াতে শুরু করে।
নিহত দুই সেনা দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর গেরিলা যোদ্ধাদের অতর্কিত হামলার শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান বা রণকৌশলগত বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি, তবে তারা জানিয়েছে যে দক্ষিণ লেবাননে তাদের ‘টার্গেটেড’ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গত কয়েক দিনের সংঘর্ষে উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। লেবানন সীমান্তজুড়ে ইসরায়েলি গোলন্দাজ বাহিনী এবং হিজবুল্লাহর মিসাইল ইউনিটের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। নিচে বর্তমান পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সীমান্ত সংঘর্ষের সাম্প্রতিক চিত্র
| বিষয় | বিবরণ ও পরিসংখ্যান |
| প্রাণহানি (ইসরায়েল) | ২ জন সেনা (দক্ষিণ লেবাননে নিহত) |
| হামলার ধরণ (হিজবুল্লাহ) | ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রকেট হামলা |
| হামলার ধরণ (ইসরায়েল) | বিমান হামলা, ড্রোন স্টাইক ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণ |
| আক্রান্ত এলাকা | দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত গ্রাম ও উত্তর ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি |
| উত্তেজনার মূল কারণ | ইরান-ইসরায়েল সরাসরি সংঘাতের প্রভাব |
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানের সময় সেনা নিহতের এই ঘটনা ইসরায়েলকে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করতে পারে। হিজবুল্লাহর বিশাল রকেট ভাণ্ডার এবং তাদের গেরিলা যুদ্ধপদ্ধতি ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে রাজধানী বৈরুতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসন এই অঞ্চলে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও ইরান ও ইসরায়েলের সরাসরি সংঘাতের ছায়া এখন লেবানন ফ্রন্টে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। লেবানন সরকার বারবার এই সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানালেও হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনার এই মৃত্যু সম্ভবত যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে আরও ক্ষীণ করে দিল। আইডিএফ ইতিমধ্যে উত্তর সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য এবং সাঁজোয়া যান পাঠাতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি কমান্ডো অভিযানের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয় মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।