খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য তিন মাসের আন্তর্জাতিক বিরতির পর মাঠে ফেরার মুহূর্ত আসলেই কাছাকাছি। আগামীকাল মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসছে টাইগাররা। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স জানিয়েছেন, পাকিস্তান সিরিজটি দেশের জন্য ২০২৭ সালের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ যাত্রার প্রথম ধাপ।
আগামী বছরের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়। সিমন্সের মতে, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পাশাপাশি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে অগ্রসর হয়ে সরাসরি কোয়ালিফাই করা বাংলাদেশ দলের মূল লক্ষ্য। সিরিজ শুরুর আগে মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য র্যাঙ্কিংয়ে উপরের দিকে ওঠা। সরাসরি কোয়ালিফিকেশনের জন্য আটের মধ্যে থাকা দরকার, তবে মূল লক্ষ্য হলো টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করা। আমরা চাই দলের প্রতিটি বিভাগ আরও উন্নত হোক।”
বর্তমানে বাংলাদেশ ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে দশে অবস্থান করছে। পাকিস্তান র্যাঙ্কিংয়ে চারে থাকলেও বাংলাদেশের ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিবাচক ইতিহাস রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ঢাকায় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
সিরিজের মূল তথ্য নিম্নে তুলে ধরা হলো:
| ম্যাচ | তারিখ | স্থান | টাইগারদের লক্ষ্য |
|---|---|---|---|
| ১ম ওয়ানডে | ১০ মার্চ ২০২৬ | মিরপুর | শক্তিশালী শুরু ও র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি |
| ২য় ওয়ানডে | ১৩ মার্চ ২০২৬ | মিরপুর | মিডল অর্ডার সমর্থন ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো |
| ৩য় ওয়ানডে | ১৬ মার্চ ২০২৬ | মিরপুর | সিরিজ জয়ের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি |
সিমন্স আরও উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি নেতৃত্বাধীন দল ৬ জন নতুন ক্রিকেটার নিয়েও এসেছে। তিনি বলেন, “নতুন খেলোয়াড় হলেও তাদের প্রতিভাকে অবমূল্যায়ন করা যাবে না। প্রতিটি ক্রিকেটার যোগ্যতা প্রমাণ করেই দলে আসে।”
বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান লিটন দাস মিডল অর্ডারে খেলবেন। সিমন্স বলেন, “লিটন ওপেনিং কিপিং করলে অতিরিক্ত চাপ পড়বে। মিডল অর্ডারে থাকলে তার স্পিন-বোলিংয়ের দক্ষতা দলের জন্য কার্যকর হবে। মিডল অর্ডার আমাদের দুর্বল জায়গা, তাই তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।”
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারিয়ে র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করতে চায়। এই সিরিজকে কোচ সিমন্স ২০২৭ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের পথে ‘প্রথম ধাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।