খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
আজ সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আমন্ত্রণ জানান। তবে এই অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদে সোচ্চার থাকেন। তাদের হাতে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’–সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। স্পিকার এ সময় শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে প্রবেশ করে স্পিকারের পাশে বসেন। তবে হঠাৎ করেই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি–এর সদস্যরা টেবিল চাপড়াতে থাকেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াক আউট করে প্রতিক্রিয়া জানান।
ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদি সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও শহীদদের স্মরণে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তিনি জানান।
রাষ্ট্রপতি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, অর্থনীতি ও বৈদেশিক নীতি সম্পর্কেও তথ্য দেন। তিনি মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে সম্ভাব্য পদক্ষেপের উপর আলোকপাত করেন।
নিচের টেবিলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রধান বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| গণ–অভ্যুত্থান | ফ্যাসিবাদি সরকারের পতন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও শহীদদের স্মরণ |
| অন্তর্বর্তী সরকার | জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর গঠিত সরকার ও কার্যক্রম |
| বর্তমান সরকার | জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম |
| অর্থনীতি | মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কৃষি ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ |
| আন্তর্জাতিক বিষয় | মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব এবং দেশের কূটনৈতিক অবস্থান |
| সংসদীয় হট্টগোল | বিরোধী দলের প্রতিবাদ, ওয়াক আউট, টেবিল চাপড়ানোর ঘটনা |
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী সংসদে সরকারের অর্জন ও দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তাঁর ভাষণ রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ তৈরি করে। উপস্থিত সংসদ সদস্যরা বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে শোনেন, যদিও বিরোধী দলের হট্টগোলের কারণে পুরো অধিবেশন উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই ভাষণ প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রপতি দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে সচেষ্ট। দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।