খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
জামালপুর জেলার জামালপুর সদর থানা প্রাঙ্গণে অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র পোড়াতে গিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় সাময়িক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। থানার বর্জ্য কাগজপত্র ও শুকনো পাতায় দেওয়া আগুন ঝড়ো বাতাসের কারণে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রোববার (১৫ মার্চ) রাত প্রায় ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় থানার ভেতরে থাকা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিলেও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, থানার প্রাঙ্গণে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় ও বাতিল কাগজপত্র নিয়মিত পরিষ্কার করার অংশ হিসেবে সেগুলো পোড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে থানা চত্বরের শুকনো পাতা ও অন্যান্য আবর্জনাও ওই কাগজপত্রের স্তুপের সঙ্গে পুড়িয়ে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়।
রোববার বিকেলের দিকে থানার নির্দিষ্ট স্থানে এসব কাগজপত্র ও আবর্জনার স্তুপে আগুন দেওয়া হয়। প্রথম দিকে আগুন সীমিত আকারেই জ্বলছিল এবং তা নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। তবে সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর থেকে আকাশে মেঘ জমতে শুরু করে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই বজ্রপাত ও ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। এতে আগুনের তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ প্রবল ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বাতাসের বেগ বাড়ার ফলে আগুনের লেলিহান শিখা এবং জ্বলন্ত ছাই চারদিকে উড়ে যেতে থাকে। এতে থানার আশপাশে থাকা গাছপালা ও অন্যান্য স্থাপনায় আগুন লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এ সময় পরিস্থিতি দেখে থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে নেমে পড়েন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই তারা পানি ও বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। তবে ঝড়ো বাতাসের কারণে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-কে। খবর পেয়ে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
রাত ১১টার পর বাতাসের গতি কিছুটা কমে আসলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভাতে সক্ষম হন। তাদের সহায়তায় পুলিশ সদস্যরাও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেন।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, থানার বর্জ্য কাগজপত্র ও শুকনো পাতা পোড়ানোর সময় ঝড়ো বাতাসের কারণে আগুন কিছুটা ছড়িয়ে পড়ে। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, “বাতাসের কারণে আগুনের ছাই ও শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রথমে পুলিশ সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন পুরোপুরি নেভাতে সহায়তা করে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | জামালপুর সদর থানা প্রাঙ্গণ |
| জেলা | জামালপুর |
| ঘটনার সময় | ১৫ মার্চ, রাত প্রায় ১১টা |
| আগুনের কারণ | অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শুকনো পাতা পোড়ানো |
| পরিস্থিতি জটিল হওয়ার কারণ | ঝড়ো বাতাস ও বজ্রপাত |
| প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া | পুলিশ সদস্যদের আগুন নেভানোর চেষ্টা |
| সহায়তাকারী সংস্থা | ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স |
| হতাহতের ঘটনা | নেই |
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা অফিস প্রাঙ্গণে বর্জ্য পোড়ানোর সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঝড়ো আবহাওয়া বা প্রবল বাতাসের সময় এ ধরনের কাজ করলে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
জামালপুর সদর থানার এই ঘটনাটি বড় ধরনের দুর্ঘটনায় রূপ না নিলেও এটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।