খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
সিরাজগঞ্জে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ‘ঈদ সম্মানী’ নামে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বার্তা আদানপ্রদান ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা নিজেদের পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে শাড়ি ও লুঙ্গি ব্যবসায়ীদের কাছে অর্থ দাবি করছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে একটি নম্বর থেকে বার্তা পাঠিয়ে ঈদ উপলক্ষে সম্মানী দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছিল। বার্তাগুলোতে প্রেরক নিজেকে জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে পরিচয় দিত এবং দ্রুত অর্থ পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করত।
পুলিশ জানায়, বিষয়টি কয়েকজন ব্যবসায়ীর সন্দেহ হলে তারা স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বার্তাগুলোর উৎস অনুসন্ধান করে সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং পৃথক অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শেরপুর থানার কৃষ্ণপুর নামাপাড়া এলাকার আমজাদের ছেলে সোহেল মিয়া (৩৪), শেরপুর থানার খানপুর এলাকার মৃত রমজান আকন্দের ছেলে বাদশা আকন্দ (৫০) এবং একই থানার খানপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রিপন (২২)। পুলিশ জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে তারা জেলার পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেন। বিশেষ করে উৎসবের সময় ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে দ্রুত অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করা হতো।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন এবং নগদ তিন হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা মুঠোফোনে একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিচে অভিযানের সময় উদ্ধার করা সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| উদ্ধারকৃত সামগ্রী | সংখ্যা |
|---|---|
| অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন | ১টি |
| স্যামসাং মুঠোফোন | ১টি |
| নগদ অর্থ | ৩,০০০ টাকা |
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিচয় গোপন রেখে প্রতারণার প্রবণতা বাড়ছে। তাই কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ দাবি করা হলে তা যাচাই না করে কাউকে অর্থ না দেওয়ার জন্য তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির অন্য সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত অভিযোগ জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ব্যবসায়ীসহ সাধারণ নাগরিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।