খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৭ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, আর কোনো ব্যাংক কোনো রাজনৈতিক দল বা পরিবারের স্বার্থে কাজ করতে পারবে না। তাঁর কথায়, পূর্বে ইসলামী ব্যাংক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একটি নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর প্রতি অনুগত হয়ে কাজ করেছে, যার ফলে ব্যাংকটিতে লুটপাটের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে এখন থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর এসব মন্তব্য করেন। এটি তাঁর গভর্নর পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠক। তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংক একসময় অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। কিন্তু কিছু সময়ে ব্যাংকটিতে সুশাসনের চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবরকম সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”
বৈঠকে ব্যাংকের কর্মকর্তারা লুটপাটের ধরন, ব্যাংকের পুনর্জীবনের কৌশল এবং ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। গভর্নর ব্যাংকটিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য কিছু নীতি সহায়তার প্রস্তাব দেন।
বৈদেশিক মুদ্রা ও প্রবাসী অর্থপ্রেরণায় ইসলামী ব্যাংকের বিশেষ অবদান রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ব্যাংকের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক প্রবাসীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স আহরণে সহায়তা করেছে। গভর্নর বৈঠকে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে দেশে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। এই সময়ে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়িয়ে ডলারের যোগান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংককে এই খাতে আবার জোর দিতে হবে।
বৈঠকে গভর্নর আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ নেয়া কিছু প্রতিষ্ঠান এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে বা বন্ধ হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করার জন্য নীতিমালার আওতায় ছাড় দিয়ে ঋণ নবায়ন করতে হবে। তিনি উদ্যোক্তাদের ব্যাংকে ডেকে পরামর্শ ও সমাধান প্রক্রিয়া দ্রুত করার নির্দেশ দেন।
গভর্নরের মতে, সকল ব্যাংককে এখন পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে, রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাব থেকে মুক্ত। এই পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| গভর্নরের ঘোষণা | কোনো ব্যাংক আর কোনো দল বা পরিবারের স্বার্থে কাজ করবে না |
| ব্যাংকের পুনর্জীবন | সুশাসন, নীতি সহায়তা, পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি |
| রেমিট্যান্স অবদান | মধ্যপ্রাচ্য নেটওয়ার্ক, প্রবাসী অর্থপ্রেরণায় শীর্ষ অবস্থান |
| ডলারের চাহিদা | মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি জরুরি |
| খেলাপি ঋণ পুনর্গঠন | নীতিমালার আওতায় ছাড় দিয়ে ঋণ নবায়ন, কারখানা চালু করা |
| কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা | নীতি সহায়তা, ব্যাংক পরিচালনার তদারকি |
গভর্নরের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে স্বচ্ছ, পেশাদার এবং স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে।