খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যানহীন থাকার কারণে দেশের বীমা খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সংস্থার নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের গতি হারানো দেখা যাচ্ছে। লাইফ এবং নন-লাইফ বীমা কোম্পানির নীতি অনুমোদন, বীমা দাবি নিষ্পত্তি এবং কোম্পানির অনিয়ম তদারকি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকাল স্থগিত রয়েছে।
ড. এম আসলাম আলম ব্যক্তিগত কারণে ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর থেকে সংস্থার নেতৃত্বহীনতা দেখা দিয়েছে। সাধারণত চেয়ারম্যান পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সরকার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এবার দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পদটি শূন্যই রয়েছে এবং কাউকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
ড. এম আসলাম আলম ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন। তিন বছরের মেয়াদে তার দায়িত্ব ২০২৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইডিআরএ-এর মতো বিশেষায়িত সংস্থায় দীর্ঘ সময় চেয়ারম্যান না থাকা বীমা খাতের শৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ। দ্রুত যোগ্য ও সৎ ব্যক্তি নিয়োগ না হলে খাতের অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হবে।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান শূন্য থাকার কারণে সৃষ্ট মূল সমস্যাগুলো নিম্নরূপ:
| কার্যক্রম/সংকট | বর্তমান অবস্থা | প্রভাব |
|---|---|---|
| লাইফ ও নন-লাইফ বীমা নীতি অনুমোদন | স্থগিত | নতুন পলিসি অনুমোদন ও লাইসেন্স নবায়নে বিলম্ব |
| কোম্পানির অনিয়ম ও দুর্নীতি তদারকি | কার্যক্রম দুর্বল | আর্থিক স্বচ্ছতা হ্রাস, অনিয়ম বৃদ্ধি |
| গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধ | নির্দেশনার অভাবে বিলম্ব | ক্ষতিপূরণ দেরি, গ্রাহক সন্তুষ্টি কমে যাচ্ছে |
| নীতিগত সংস্কার ও উন্নয়ন পদক্ষেপ | স্থবির | খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প ব্যাহত |
চেয়ারম্যান না থাকায় সংস্থার কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ায় গ্রাহক এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাচ্ছে। এটি দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকিস্বরূপ।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দ্রুত যোগ্য ও অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান নিয়োগ না হলে বীমা খাতের বিভিন্ন কার্যক্রম স্থবির থাকবে এবং দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চেয়ারম্যান পদ শূন্য থাকায় বীমা খাতের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কোম্পানির তদারকি এবং সংস্কার বাস্তবায়ন পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে খাতের সার্বিক কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে এই শূন্যতা পূরণ করা বীমা খাতের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগকারীর আস্থা এবং দেশের আর্থিক খাতের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে।