খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
খুলনার রূপসা উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় মাত্র ৪০০ টাকার পাওনাকে কেন্দ্র করে এক চা-বিক্রেতার ওপর মারাত্মক হামলা সংঘটিত হয়েছে, যার ফলে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতের নাম দ্বীন মোহাম্মদ ঢালী (৫২)। তিনি স্থানীয় আবুল কাশেম ঢালীর ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে চায়ের দোকান চালাতেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার মূল প্রেক্ষাপট ছিল ঘাটভোগ ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক ও পেশায় মাংস বিক্রেতা আবুল খায়ের লস্কর। তিনি দ্বীন মোহাম্মদের কাছ থেকে পূর্বে বিক্রি করা মাংসের ৪০০ টাকা বকেয়া পাননি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে তিনি দ্বীন মোহাম্মদের দোকানে গিয়ে বকেয়া টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন। এসময় তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতিতে উত্তেজনা বেড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় আবুল খায়ের লস্কর একটি ইট নিয়ে দ্বীন মোহাম্মদের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। আহত দ্বীন মোহাম্মদকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবদুর রাজ্জাক মীর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “বকেয়া টাকাকে কেন্দ্র করে বিরোধের একপর্যায়ে মাথায় ইটের আঘাত পেয়ে চা-বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।” ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্থানীয়রা শোকাহত। থানায় বর্তমানে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, দ্বীন মোহাম্মদ ঢালী ছিলেন শান্ত স্বভাবের এবং দিনের বড় অংশ চায়ের দোকান পরিচালনায় ব্যয় করতেন। এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় গভীর শোক ও নিরাপত্তা শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
নিচে ঘটনার মূল বিষয়গুলো টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা | ৪০০ টাকার বকেয়া টাকা নিয়ে চা-বিক্রেতাকে ইট দিয়ে হত্যা |
| সময় ও তারিখ | মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল, ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা |
| স্থান | রূপসা উপজেলা, খুলনা জেলা |
| নিহতের নাম | দ্বীন মোহাম্মদ ঢালী, বয়স ৫২ |
| মৃতের পরিবার | আবুল কাশেম ঢালীর ছেলে |
| অভিযুক্ত | আবুল খায়ের লস্কর, কৃষক দলের আহ্বায়ক ও মাংস বিক্রেতা |
| ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র | ইট |
| আহত ও মৃত অবস্থান | প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মৃত ঘোষণা |
| পুলিশি ব্যবস্থা | অভিযুক্ত গ্রেপ্তারের অভিযান শুরু, থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন |
| স্থানীয় প্রতিক্রিয়া | উত্তেজনা ও শোকের ছায়া, এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি দাবি |
এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এটি ছোট বকেয়া বা আর্থিক বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত হিংসাত্মক অপরাধের প্রতি সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।