খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে ঈদযাত্রার তীব্র চাপের কারণে যাত্রীবাহী ট্রেনে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আজ, বুধবার (১৮ মার্চ), দুপুরে ঢাকা থেকে খুলনাগামী নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেনটি ভাঙ্গায় পৌঁছালে দেখা যায়, প্রতিটি বগি মানুষের ভরে গেছে। অনেক যাত্রী আসন না পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পাশাপাশি কেউ কেউ ট্রেনের ছাদেও উঠছেন।
যাত্রীদের মধ্যে অনেকে একে অপরকে হাত ধরে ছাদে উঠছেন। ভাঙ্গা থেকে উঠা যাত্রীদের মধ্যে অধিকাংশই প্রাথমিকভাবে আসন না পাওয়ায় দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ট্রেনের সামনের ইঞ্জিনের দুই পাশের রেলিংয়ে বসে অথবা দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। ঢাকা থেকে রওনা হওয়া নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেনটি ভাঙ্গায় প্রায় ৩০ মিনিট বিলম্বে পৌঁছায়।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাড়া একই রকম রাখা হয়েছে এবং কোন অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হয়নি।
যাত্রীদের বক্তব্য:
ভজহরি মিত্র, যিনি ইঞ্জিন কভারের রেলিংয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, বলেন, “ট্রেনে আসন না পেয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে। বাড়ি যেতে হবে, তাই কিছু কষ্ট স্বীকার করছি।”
তাজিম হোসেন, যিনি ভাঙ্গা থেকে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন, জানান, “ট্রেনের যাত্রা আরামদায়ক হলেও আজ আসন পাইনি। নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর আশায় ট্রেনে উঠেছি।”
অন্য যাত্রী বরুণ বলেন, “সিট না পেয়ে দাঁড়ানো কষ্টকর, তবুও বাড়ি যাওয়ার আনন্দে এই কষ্ট সহ্য করছি। নিরাপদে পৌঁছানোই মূল লক্ষ্য।”
ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার রনি ব্যাপারী বলেন, “ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের চাপ প্রচণ্ড। নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেনে কোনো বগিতে খালি আসন নেই। তারপরও ভাঙ্গা থেকে প্রচুর যাত্রী উঠেছেন। আজ ভিড় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। আশা করি সবাই নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাবে।”
নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| ট্রেনের নাম | নকশিকাঁথা কমিউটার |
| রুট | ঢাকা → খুলনা |
| ভাঙ্গায় পৌঁছার সময় | দুপুর, ১৮ মার্চ, ৩০ মিনিট বিলম্বে |
| বগির সংখ্যা | ১২ (সর্বাধিক ধারণক্ষমতা) |
| প্রায় যাত্রী সংখ্যা | প্রায় ১৫০০–১৬০০ |
| ভাড়া | পূর্বনির্ধারিত, অতিরিক্ত চার্জ নেই |
| বিশেষ পরিস্থিতি | কিছু যাত্রী ইঞ্জিন কভারের রেলিং ও ছাদে বসছেন/দাঁড়াচ্ছেন |
এ পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট হয় যে, ঈদ উৎসবে বাড়ি ফেরা মানুষের প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা এবং রেলওয়ে যাত্রায় সীমিত আসনের কারণে নিরাপত্তা ও আরামের জন্য সতর্কতা প্রয়োজন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সকল যাত্রীর নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন।