খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রস্তুতিপর্বের ব্যস্ত সময়ে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প-সংক্রান্ত শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা পরিশোধ সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু শাখা স্বল্পসংখ্যক কর্মী নিয়োগ করে খোলা রাখা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের আলোকে, ঢাকা মহানগরীসহ আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের তৈরি পোশাকশিল্প-ঘন এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখাগুলো সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে গ্রাহক লেনদেন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সীমিত থাকবে। এসময় জোহরের নামাজের জন্য স্বল্প বিরতি দেওয়া হবে।
নিম্নে প্রধান ব্যাংকসমূহের খোলা শাখাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
| ব্যাংক | খোলা শাখা ও অবস্থান | অফিস সময় | লেনদেন সময় |
|---|---|---|---|
| প্রাইম ব্যাংক | আগ্রাবাদ (চট্টগ্রাম), নারায়ণগঞ্জ, গণকবাড়ী (সাভার), টঙ্গী (গাজীপুর) | সকাল ১০টা–দুপুর ২টা | সকাল ১০টা–১টা |
| ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ | আগ্রাবাদ করপোরেট (চট্টগ্রাম), ঢাকার হেড অফিস কমপ্লেক্স, লোকাল অফিস, নারায়ণগঞ্জ | সকাল ১০টা–দুপুর ২টা | সকাল ১০টা–১টা |
| সিটি ব্যাংক | জয়পুরহাট, দিনাজপুর, গোবিন্দগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, সৈয়দপুর, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর | সকাল ১০টা–দুপুর ২টা | সকাল ১০টা–১টা |
| ব্র্যাক ব্যাংক | মতিঝিল, টঙ্গী, গণকবাড়ী, জয়দেবপুর, সিডিএ অ্যাভিনিউ (চট্টগ্রাম), রোকেয়া সরণি, রংপুর, ধানমন্ডি-২৭, বড় বাজার (খুলনা), গুলশান নর্থ অ্যাভিনিউ, যশোর, সিদ্ধিরগঞ্জ | সকাল ১০টা–দুপুর ২টা | সকাল ১০টা–১টা |
| শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক | ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখা | সকাল ১০টা–দুপুর ২টা | সকাল ১০টা–১টা |
| প্রিমিয়ার ব্যাংক | কাওরান বাজার ও মতিঝিল (ঢাকা), বনানী, গুলশান, উত্তরা | সকাল ১০টা–দুপুর ২টা | সকাল ১০টা–১টা |
| মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক | চন্দ্রা, গুলশান, জুবিলি রোড, নারায়ণগঞ্জ বিসিক, প্রিন্সিপাল শাখা, উত্তরা মডেল টাউন, কুষ্টিয়া, খুলনা, যশোর, লোহাগড়া | সকাল ১০টা–দুপুর ২টা | সকাল ১০টা–১টা |
| এনসিসি ব্যাংক | ও আর নিজাম রোড (চট্টগ্রাম), মতিঝিল, বারিধারা, সাভার, জয়দেবপুর, বাইপাইল | সকাল ১০টা–দুপুর ২টা | সকাল ১০টা–১টা |
এদিন খোলা রাখার এই ব্যবস্থা মূলত তৈরি পোশাকশিল্প-ঘন এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা পরিশোধকে সুষ্ঠু ও সময়মতো নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক শাখাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে কর্মীরা নিরাপদে ও স্বল্পসংখ্যক গ্রাহক লেনদেনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
সার্বিকভাবে, এ ধরনের সীমিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা শ্রমিক ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য আর্থিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে, ঈদের উৎসবকে সামনে রেখে কর্মী ও গ্রাহকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা হয়।
এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাংকিং সেবা স্বল্পসংখ্যক কর্মী দিয়ে চালু রাখা হলেও, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এতে শ্রমিকরা সময়মতো তাদের বেতন-ভাতা গ্রহণের সুবিধা পাবেন এবং ব্যাংক গ্রাহকরা সীমিত হলেও প্রয়োজনীয় লেনদেন করতে পারবেন।