খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হওয়ার মাত্র দুই দিন বাকি, কিন্তু ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচকে কেন্দ্র করে তৈরি রাজনৈতিক ও ক্রীড়াগত উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ দলের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে সরানো এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদের পর যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, তা পাকিস্তানের ভারত-বিরুদ্ধ ম্যাচ বয়কটের মাধ্যমে নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কিংবদন্তি সুনিল গাভাস্কার আইসিসিকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেছেন।
ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বহু পুরনো, তবে প্রথম দিকে এটি সরাসরি ক্রিকেটে প্রভাব ফেলে না। ২০১২-১৩ মৌসুমে পাকিস্তান ভারতে এসে দুটি টি-টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিল, কিন্তু এর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ রয়েছে। এখন তারা শুধুমাত্র আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের আয়োজিত টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হয়।
দুই দেশের ক্রিকেট ম্যাচ বাণিজ্যিক এবং দর্শকসংখ্যার দিক থেকে অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় আইসিসি সবসময় চেষ্টা করে তাদের একই গ্রুপে রাখার। কিন্তু মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে সরানোর সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে প্রতিস্থাপন করে, যা পাকিস্তানের কাছে দ্বিচারিতা হিসেবে দেখা হয়।
পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কটের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। যদিও পাকিস্তান সরকার দলের অংশগ্রহণ অনুমোদন দেয়, তারা ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর থেকে এই বিতর্ক থামেনি।
ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান সুনিল গাভাস্কার ইন্ডিয়া টুডেকে সাক্ষাৎকারে বলেন, আইসিসিকে ভবিষ্যতের জন্য এই ধরনের সমস্যার প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি বলেন, “ভারত ও পাকিস্তানকে একে অপরের গ্রুপে রাখার চেষ্টা বাদ দিয়ে, যেভাবে ড্র হয়, সেইভাবে খেলানো উচিত।”
গাভাস্কার উল্লেখ করেন, ২০০৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু ভিন্ন গ্রুপে থাকার কারণে তা হয়নি। তারপর থেকে আইসিসি দুই দলকে একই গ্রুপে রাখার প্রবণতা চালিয়ে এসেছে।
তিনি পাকিস্তানের ক্রীড়াগত মনোভাব নিয়েও সমালোচনা করেছেন। গাভাস্কার বলেন, ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের খেলার ধরন এবং সাম্প্রতিক ফলাফল তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করছে। তিনি আরও যোগ করেন, “যদি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হয়, ভারত দুই পয়েন্ট সহজেই অর্জন করবে এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা করতে হবে না, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ভারত সহজেই পাকিস্তানকে হারিয়েছে।”
ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক ম্যাচের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি
| বছর | টুর্নামেন্ট | ম্যাচের ধরন | ফলাফল/প্রভাব |
|---|---|---|---|
| ২০১২-১৩ | দ্বিপাক্ষিক সিরিজ | টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে | পাকিস্তান ভারতে খেলেছে; শেষ সিরিজের পর দ্বিপাক্ষিক বন্ধ |
| ২০০৭ | ওয়ানডে বিশ্বকাপ | গ্রুপ পর্যায় | একই গ্রুপে না থাকার কারণে মুখোমুখি হয়নি |
| ২০২৬ | বিশ্বকাপ | গ্রুপ ম্যাচ | পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করেছে |
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে যে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কারণে ক্রীড়ার উপর প্রভাব পড়ার ঝুঁকি কমাতে আইসিসিকে আরও সাবধানী ও নীতি নির্ধারণে সতর্ক হতে হবে।