কৃষকদের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে সরকার ফসল বীমা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বুধবার কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। মন্ত্রী বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে বীমা ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ পাবেন, যা তাদের জীবিকা ও উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়ক হবে।
উপজেলার শ্যাম্পুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের যৌথ ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সরকার নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে অনেকেই এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও বর্তমানে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবে রূপ পাচ্ছে। পরিবারিক কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানের মতো উদ্যোগ ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিতে কৃষি একটি প্রধান ভিত্তি, যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ সরাসরি যুক্ত। তাই কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য। ফসল বীমা চালু হলে কৃষকরা প্রাকৃতিক ঝুঁকি মোকাবেলায় আরও সক্ষম হবেন এবং কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আসবে।
বর্তমানে কৃষি খাতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চালু রয়েছে। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, ভর্তুকি, প্রণোদনা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। মন্ত্রী জানান, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত করা হবে, যাতে কৃষকরা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হন।
খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের চাহিদা পূরণে কোনো ঘাটতি হবে না। সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আমরাতলী ইউনিয়নের এক হাজার আট শত ঊনআশি জন উপকারভোগীর মধ্যে প্রত্যেককে ত্রিশ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়, যা নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিম্নে কৃষকদের জন্য সরকারের গৃহীত প্রধান উদ্যোগগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
উদ্যোগের নাম | লক্ষ্য | কার্যক্রম | বর্তমান অবস্থা
ফসল বীমা | প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতি থেকে সুরক্ষা | বীমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ প্রদান | পরিকল্পনা পর্যায়ে
পরিবারিক কার্ড | সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার | খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান | বাস্তবায়িত
কৃষক কার্ড | কৃষকদের আর্থিক সহায়তা | ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান | বাস্তবায়িত
ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী | সামাজিক ও ধর্মীয় সহায়তা | মাসিক সম্মানী প্রদান | বাস্তবায়িত
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফসল বীমা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাতে ঝুঁকি হ্রাস পাবে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।