খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জনসাধারণকে সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয়ের জন্য সতর্ক করেছে। সংস্থার ইস্টার্ন মেডিটেরানিয়ান অঞ্চলের পরিচালক হানান বালখি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তারা সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা পারমাণবিক দুর্ঘটনা বা হামলার রূপ নিতে পারে। বালখি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “যতই প্রস্তুতি গ্রহণ করা হোক, এর ফলে সৃষ্ট ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় এবং প্রভাব কয়েক দশক ধরে বজায় থাকতে পারে।”
বালখি ১৯৪৫ সালের হিরোশিমা ও নাগাসাকি পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞ এবং ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল দুর্ঘটনার উদাহরণ উল্লেখ করে বলেছেন, এই ইতিহাস আমাদের পারমাণবিক ঘটনার ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে বোঝায়। পারমাণবিক বিকিরণ কেবল তাৎক্ষণিক মৃত্যু ডেকে আনবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও মানুষের শ্বাসতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর ফলে ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগ পরবর্তী প্রজন্মেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা—নাতানজ, ইসফাহান এবং ফোরডো—গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হঠাৎ আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে এসব স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তবে ইরান সরকার এখনও কোনো মানবিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক সক্ষমতা বিষয়ে উদ্বেগ ক্রমবর্ধমান। ইসরায়েল একমাত্র ঘোষিত পারমাণবিক শক্তি হিসেবে রয়ে গেছে, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইরান এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবুও, সংঘাতের তীব্রতা তাদের সেই পথে ঠেলে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
ডব্লিউএইচও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জানিয়েছে, পারমাণবিক বিকিরণ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য জনসাধারণের তত্ত্বাবধান এবং সতর্কতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে দেশ সীমিত থাকছে না; পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং তার বাইরে পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
নিচের টেবিলে পারমাণবিক বিপর্যয়ের সম্ভাব্য প্রভাবগুলো সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| প্রভাবের ধরণ | সংক্ষিপ্ত বিবরণ | সম্ভাব্য সময়কাল |
|---|---|---|
| তাৎক্ষণিক মৃত্যু | বিস্ফোরণের সময় সরাসরি মৃত্যু ও আহত মানুষ | অবিলম্বে |
| স্বাস্থ্যগত প্রভাব | তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ক্যানসার, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি | দশক পরবর্তী |
| পরিবেশগত প্রভাব | মৃত্তিকা, পানি ও বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়া | এক দশক বা তার বেশি |
| প্রজন্মের প্রভাব | পরবর্তী প্রজন্মের ওপর জিনগত ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদী রোগ | একাধিক প্রজন্ম |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি রোধ করার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান। একই সঙ্গে, ডব্লিউএইচও-এর সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংস্থার মতে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর আক্রমণের পরিণতি কেবল মানবিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ও ডেকে আনতে পারে।
সংক্ষেপে, বর্তমান পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত নজরদারি, দ্রুত তথ্য ভাগাভাগি এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। পারমাণবিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা যতই দূরের মনে হোক, প্রস্তুতিতে দেরি মানে প্রজন্মের ওপর স্থায়ী প্রভাবকে আমন্ত্রণ জানানো।