দুই মাস আগে শেষ হওয়া বিপিএল ২০২৫-এর পরেও এখনও সব ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পুরোপুরি পরিশোধ হয়নি। বিশেষ করে ঢাকা ক্যাপিটালস-এর ক্রিকেটাররা এখনও তাদের বকেয়া অর্থের জন্য অপেক্ষা করছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু জানিয়েছেন, ক্রিকেটাররা ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তাদের বকেয়া পরিশোধ পাবেন।
মিঠু ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, “ঈদের আগে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে বলা হয়েছিল পুরো টাকাটা দেওয়ার জন্য। এখনও বাকি আছে প্রায় তিন কোটি সত্তর লাখ টাকা। ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে এই টাকা ক্রিকেটারদের হাতে পৌঁছে যাবে।” তিনি আরও জানান, মূলত নিয়মিত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে ৪৫ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের শর্ত থাকলেও, দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ায় সময়সীমা সামান্য বিলম্বিত হয়েছে।
বিসিবি জানায়, অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে নোয়াখালী এক্সপ্রেস এবং সিলেট টাইটান্স ফেব্রুয়ারির শুরুতে তাদের ক্রিকেটারদের বকেয়া পরিশোধ করেছে। এছাড়া, চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং রানার্স-আপ চট্টগ্রাম রয়্যালসও প্রাইজমানি নিয়েছেন।
প্রাইজমানি বিতরণের বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
| দল |
প্রাইজমানির মোট পরিমাণ |
প্রদত্ত অর্থ |
মন্তব্য |
| চট্টগ্রাম রয়্যালস |
১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা |
৪০% |
রানার্স-আপ প্রাইজমানির অংশ |
| রাজশাহী ওয়ারিয়র্স |
২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা |
পুরো অর্থ |
চ্যাম্পিয়ন দলের প্রাইজমানি |
| ঢাকা ক্যাপিটালস |
প্রায় ৫ কোটি টাকা |
অপ্রদত্ত |
ক্রিকেটাররা ১৫ এপ্রিল পাবেন |
| নোয়াখালী এক্সপ্রেস |
অজানা |
পুরো বকেয়া পরিশোধ |
ফ্র্যাঞ্চাইজির দায় থেকে গৃহীত |
| সিলেট টাইটান্স |
অজানা |
পুরো বকেয়া পরিশোধ |
ফ্র্যাঞ্চাইজির দায় থেকে গৃহীত |
মিঠু আরও বলেন, “বাকি বকেয়া অর্থ বিসিবির কাছে জমা দেওয়া ব্যাংক গ্যারান্টি থেকে পরিশোধ করা হবে। এর ফলে ক্রিকেটাররা নিশ্চিতভাবে তাদের পাওনা পাবেন।” উল্লেখযোগ্য যে, এবারের বিপিএল থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বিসিবি থেকে লভ্যাংশ পেয়েছে কিনা, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো বকেয়া অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করা ক্রিকেটারদের মানসিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা ক্যাপিটালসের খেলোয়াড়রা দীর্ঘদিন তাদের অর্থের জন্য অপেক্ষা করায় পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বকেয়া অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা প্রদর্শন করবে।
এবারের বিপিএলে অংশ নেওয়া ক্রিকেটারদের জন্য অর্থিক স্থিতি নিশ্চিত করা সমন্বয় এবং পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা আসন্ন মৌসুমে দলের ফলাফলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।