সাভারের আশুলিয়ায় গণধর্ষণ মামলার পলাতক আসামী মোসাদ্দেক খান (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪। সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে র্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার অভিযান একইদিন আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের চিনচিনা মোড় এলাকায় পরিচালিত হয়।
মোসাদ্দেক খান ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন জামগড়া দরগারপাড় এলাকার মৃত রবিউল খানের ছেলে। র্যাবের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে ২৪ জানুয়ারি রাতে সংঘটিত গণধর্ষণের এজাহার রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
র্যাব জানায়, ২৪ জানুয়ারি রাত সোয়া ১২ টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ভাড়া বাসায় ভিকটিমের কক্ষে পৌঁছে মোসাদ্দেক খান নিজেকে বাড়ির ম্যানেজার পরিচয় দেয়। তার সঙ্গে আরও ছয়জন ছিল। ভিকটিমের স্বামী দরজা খোলায় তারা জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে এবং ভিকটিম ও তার স্বামীকে ভুয়া স্বামী-স্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করে বিয়ের কাবিনামা প্রদর্শনের দাবি জানায়।
ভিকটিম তার কাবিনামা মায়ের কাছে আছে জানালেও, আসামীরা তাদের কথা উপেক্ষা করে ভিকটিমের হাত ও মুখ চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ চালায়। তারা কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেয় এবং ভোররাত ৪ টার দিকে কৌশলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মো. শাহীনুর কবির জানান, গ্রেপ্তারকৃত মোসাদ্দেক খান ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ভিকটিম সদ্য বিবাহিত এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। বিবাহের পর থেকে স্বামী মাঝে মাঝে বাসায় আসা-যাওয়া করতেন।
মোসাদ্দেক খানের গ্রেপ্তারের পর তাকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘটনাস্থল ও গ্রেপ্তারের সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় |
বিবরণ |
| গ্রেপ্তারকৃত আসামী |
মোসাদ্দেক খান, ২৫ বছর, জামগড়া দরগারপাড়, আশুলিয়া, ঢাকা |
| গ্রেপ্তারের স্থান |
ইয়ারপুর ইউনিয়ন, চিনচিনা মোড়, আশুলিয়া |
| ঘটনার তারিখ ও সময় |
২৪ জানুয়ারি ২০২৬, রাত ১২:১৫ মিনিটের দিকে |
| ভিকটিমের অবস্থা |
সদ্য বিবাহিত নারী, স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস |
| আসামীর সহযাত্রী |
৬ জন, ভিকটিমকে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় |
| র্যাবের মন্তব্য |
মোসাদ্দেক ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, স্বীকারোক্তি পেয়েছে |
| পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ |
আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর, তদন্ত ও মামলা প্রক্রিয়াধীন |
সামাজিক ও আইনি প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা দেশের জনসাধারণের জন্য শোক ও সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী নিরাপত্তা, ভাড়া বাসা ও পল্লী-শহর পরিবেশে অপরাধ প্রবণতা নিরীক্ষার গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো এই ধরনের ঘটনার প্রতিকারের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রাখছে।
র্যাবের এই অভিযান প্রমাণ করে যে, পলাতক ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের ধরতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সচেষ্ট। সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া মেনে তথ্য ও সহযোগিতা প্রদান করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।