খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে। সাধারণত সংকটকালীন সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যদি স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স চার হাজার একশ মার্কিন ডলারের ওপর স্থিতিশীল থাকতে ব্যর্থ হয়, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি নিম্নমুখী প্রবণতার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
গত সোমবার স্বর্ণের দাম পাঁচ শতাংশেরও বেশি কমে চার হাজার তিনশ মার্কিন ডলারের নিচে নেমে আসে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছে। ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাজারে এই পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন এবং তা না মানলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুঁশিয়ারি দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে জানায়, প্রয়োজনে তারা ওই প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট সামরিক ও আর্থিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এই পারস্পরিক হুমকির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
থাইল্যান্ডভিত্তিক একটি স্বনামধন্য স্বর্ণ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে চার হাজার দুইশ পঁয়ত্রিশ এবং চার হাজার একশ মার্কিন ডলার স্তর দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করছে। তার মতে, যদি স্বর্ণের দাম চার হাজার একশ ডলারের নিচে নেমে যায়, তবে বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে পতন অব্যাহত থাকতে পারে। এমনকি বছর শেষে দাম চার হাজার ডলারের নিচেও নেমে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ বাজারেও স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। স্থানীয়ভাবে এক ভরি স্বর্ণের দাম কমে ৭০ হাজার বাহাতের নিচে নেমে প্রায় ৬৫ হাজার বাহাতে লেনদেন হচ্ছে। দিনভর দামের ওঠানামাও বাজারে অনিশ্চয়তার মাত্রা বাড়িয়েছে।
স্বর্ণ সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী সময়ে সুদের হার বাড়াতে পারে, যা স্বর্ণের আকর্ষণ আরও কমিয়ে দিতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্ক করে বলেছেন, স্বর্ণের দাম আরও একশ থেকে দুইশ মার্কিন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। তারা বিনিয়োগকারীদের অতি-জল্পনামূলক লেনদেন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, চার হাজার ডলারের নিচে দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীলভাবে নেমে যাওয়া তুলনামূলকভাবে কম সম্ভাবনাপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজার আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরতে পারে।
নিচে স্বর্ণবাজারের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ স্তর ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সাম্প্রতিক দাম পতন | এক দিনে পাঁচ শতাংশের বেশি |
| বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ স্তর | চার হাজার দুইশ পঁয়ত্রিশ মার্কিন ডলার |
| প্রধান ঝুঁকির স্তর | চার হাজার একশ মার্কিন ডলার |
| সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি নিম্নসীমা | চার হাজার ডলারের নিচে |
| থাইল্যান্ডের স্থানীয় দাম | প্রায় ৬৫ হাজার বাহাত প্রতি ভরি |
| সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিবর্তন | আরও ১০০–২০০ ডলার পতনের আশঙ্কা |
সব মিলিয়ে বৈশ্বিক স্বর্ণবাজার বর্তমানে এক অনিশ্চিত পর্যায় অতিক্রম করছে, যেখানে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আর্থিক নীতির পরিবর্তন একসঙ্গে বাজারের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।