খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের বীমা খাতে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় খাতের নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং আইন কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে জীবন বীমা খাতে অনিয়মের অভিযোগ ক্রমবর্ধমান হওয়ায় খাতের দুর্বলতা ও চ্যালেঞ্জের বিষয়টি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে বীমা খাতে জালিয়াতি প্রতিরোধ মূলত বীমা আইন ২০১০ এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর আওতায় পরিচালিত হয়। খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (আইডিআরএ)।
বীমা আইন ২০১০-এর ধারা ১৩০ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বীমা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে মিথ্যা তথ্য প্রদান বা জাল নথি দাখিল করলে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা, সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া আইডিআরএ প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করতে পারে, যা সাধারণত ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়। লঙ্ঘনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী প্রতারণা (ধারা ৪১৫-৪২০) করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। নথি জালিয়াতি (ধারা ৪৬৩-৪৬৫) ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বিধান রয়েছে। হিসাব জালিয়াতি (ধারা ৪৭৭এ) করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা প্রযোজ্য। এছাড়া অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ প্রযোজ্য।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ অননুমোদিতভাবে ব্যবহার বা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আইডিআরএ কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপ করলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিদ্যমান শাস্তি কাঠামো বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধে পর্যাপ্ত নয়।
আইডিআরএ খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির জন্য কিছু সংশোধনী প্রস্তাব বিবেচনা করছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
| প্রস্তাবিত পদক্ষেপ | বিস্তারিত বর্ণনা |
|---|---|
| পরিচালকের ব্যক্তিগত সম্পদ বাজেয়াপ্ত | প্রতারণা প্রমাণিত হলে পরিচালকের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা |
| ভোক্তা সুরক্ষা জোরদার | গ্রাহকের অধিকার ও ক্ষতি প্রতিরোধ নিশ্চিত করা |
| নিয়ন্ত্রকের ক্ষমতা বৃদ্ধি | তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ |
| শাস্তির মাত্রা বৃদ্ধি | জরিমানা ও কারাদণ্ডের সীমা পুনঃনির্ধারণ |
২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এসব প্রস্তাব বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের জন্য পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বীমা খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন কার্যকর সংস্কার, নিয়মিত তদারকি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করলে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা সম্ভব হবে এবং খাতটিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাবে।
উপসংহারে, নিয়মিত তদারকি, কঠোর শাস্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি নিশ্চিত হলে বীমা খাতে গ্রাহক আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে।