খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের গোয়ালিনী গেট এলাকায় শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে একটি খামারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এই আগুনে খামারের ১০টি গরু এবং ১৩টি ছাগল ছাই হয়ে গেছে। একই ঘটনায় পাশের পাঁচটি দোকানও পুড়ে ধ্বংস হয়েছে।
পুড়ে যাওয়া খামারটির নাম ‘মা-বাবার দোয়া অ্যাগ্রো ফার্ম’। খামারের মালিক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, আগুনের মুহূর্তে তাঁর খামারে মোট ১১টি গরু এবং ১৩টি ছাগল ছিল। খামারের পাশে একটি মুদিদোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে, খামারের একমাত্র গরুটি ছাড়া বাকিরা আগুনে ধ্বংস হয়ে যায়।
হাবিবুর রহমান বলেন, “ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ততক্ষণে স্থানীয় বাসিন্দারাই আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।” তিনি আরও বলেন, “আগুনে খামার, গরু-ছাগল এবং দোকানগুলোর সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানিয়েছেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে আগুনের খবর তারা পেয়েছেন। এরপর ঘটনাস্থলে একটি ফায়ার টিম পাঠানো হয়। ঘটনা স্থান প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। যদিও কিছু স্থানীয় বাসিন্দা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাতের কথা বললেও ঘটনাস্থলে কোনো গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি।”
| ক্ষতির ধরন | সংখ্যা/পরিমাণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| গরু | ১০ | মোট ১১টির মধ্যে ১ বাঁচল |
| ছাগল | ১৩ | সব পুড়ে গেছে |
| দোকান | ৫ | সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি |
| সম্ভাব্য আগুনের উৎস | বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট | গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি |
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুনের সময় তারা চিৎকার এবং সাইরেন শুনে দৌড়ে এসে সাহায্য করেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় এক ঘণ্টা লেগেছে। তারা সরকারের কাছে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই অগ্নিকাণ্ডে স্থানীয় কৃষি ও ব্যবসায়িক সম্প্রদায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। খামারের মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, “এ ক্ষতি আমাদের জন্য বড় আর্থিক বোঝা। আশা করছি স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকার এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পদক্ষেপ নেবে।”
অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্টসার্কিট ছিল প্রধান কারণ। তবে সম্পূর্ণ তদন্ত শেষে চূড়ান্ত কারণ প্রকাশ করা হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং স্থানীয় জনসাধারণের সাহসী অবদানের প্রশংসা করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত তথ্য ও ক্ষয়ক্ষতি খামার, পশুপালক এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যা ভবিষ্যতে আগুন প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।