খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে। আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে দেশটিতে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে ফিলিপাইনের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩ শতাধিক পেট্রোল পাম্প বা জ্বালানি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
সরকারি পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৩০ মার্চ) পর্যন্ত মোট ৩৬৫টি জ্বালানি স্টেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশের পর্যবেক্ষণেও একই চিত্র উঠে এসেছে। এসব স্টেশনের বেশিরভাগই জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ায় কিংবা অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাব ফিলিপাইনের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি পড়েছে। দেশটিতে জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য ইতোমধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গণপরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের ওপর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প খাতেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, কারণ জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে।
সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানি উৎস অনুসন্ধান, মজুদ ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে জরুরি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।
নিচে বর্তমান পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| সূচক | তথ্য |
|---|---|
| বন্ধ পেট্রোল পাম্প | ৩৬৫টি |
| সংকট শুরুর সময় | ২৮ ফেব্রুয়ারি |
| জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি | দ্বিগুণের বেশি |
| প্রধান প্রভাবিত খাত | পরিবহন, কৃষি, শিল্প |
সামগ্রিকভাবে, জ্বালানি সংকট ফিলিপাইনের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অভিঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।