খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
নেত্রকোনায় সাম্প্রতিক সময় ধরে হামের সংক্রমণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় মোট ৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারজন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ৫ শিশু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংক্রমিত শিশুদের বয়স ছয় মাস থেকে তিন বছরের মধ্যে। আক্রান্তদের অবস্থান উপজেলার ভিত্তিতে হচ্ছে—সদর উপজেলা চারজন, পূর্বধলা দুইজন, আটপাড়া দুইজন এবং কলমাকান্দা একজন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগই শূন্য থেকে পাঁচ বছরের।
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের শরীরে সাধারণত জ্বর, সর্দি-কাশি এবং লালচে ফুসকুড়ি দেখা যাচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাদের আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে। তবে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, আইসোলেশন ওয়ার্ডে কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ কম।
হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর অভিভাবক ফুলন রাণী সরকার বলেন, “আমার শিশুর তিন দিন ধরে জ্বর ছিল। পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা হাম শনাক্ত করেন। তবে আইসোলেশন ওয়ার্ডে কিছু ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না, তাই বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।”
শিশু বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান খান জানান, “হাম আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালের একটি আলাদা কর্নার চালু করা হয়েছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও রোগীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল, প্যারাসিটামল সিরাপ, অ্যান্টিবায়োটিক ও চোখের ড্রপের সরবরাহ নেই। অক্সিজেন সরবরাহের সাময়িক সমস্যা এখন সমাধান হয়েছে।”
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা সময়মতো টিকা না নিলে শিশুদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেননি, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন গোলাম মাওলা বলেন, “আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং হাসপাতালের টিকার কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, অভিভাবকরা শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করতে এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে পারবেন, যাতে সংক্রমণ রোধ করা যায়।
নিচের সারণিতে নেত্রকোনায় হাম সংক্রমণ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| মোট শনাক্ত শিশু | ৯ জন |
| বর্তমানে হাসপাতাল ভর্তি | ৫ জন |
| সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা | ৪ জন |
| শিশুদের বয়স | ৬ মাস – ৩ বছর |
| আক্রান্ত উপজেলার বণ্টন | সদর ৪, পূর্বধলা ২, আটপাড়া ২, কলমাকান্দা ১ |
| প্রধান উপসর্গ | জ্বর, সর্দি-কাশি, লালচে ফুসকুড়ি |
| চিকিৎসা কেন্দ্র | নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল, আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড |
| ওষুধের ঘাটতি | ভিটামিন-এ ক্যাপসুল, প্যারাসিটামল সিরাপ, অ্যান্টিবায়োটিক, চোখের ড্রপ |
| চিকিৎসা কর্মকর্তা | মো. আবু রায়হান খান, শিশু বিভাগ |
| স্বাস্থ্য সতর্কতা | সংক্রামক রোগ, সময়মতো টিকা অত্যন্ত জরুরি |
| জেলা সিভিল সার্জনের মন্তব্য | আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত, টিকার কোনো সংকট নেই, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে |
এই পরিস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে, নেত্রকোনায় হাম সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দ্রুত জনস্বাস্থ্য সতর্কতা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।