খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের প্রখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ডালিয়া নওশিন আর নেই। বুধবার দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যানসারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছিল কখনও বাসায়, কখনও হাসপাতালে। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ২৭ মার্চ তাঁকে রাজধানীর ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন খালাতো বোন ও নজরুল সংগীতশিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক। তিনি জানান, পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাদ মাগরিব গুলশান সোসাইটি মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মরদেহ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
স্বাধিন বাংলা বেতার কেন্দ্র–এর একজন গর্বিত শিল্পী হিসেবে ডালিয়া নওশীন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সংগীত ও কণ্ঠযুদ্ধের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দেশাত্মবোধক গান ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশনার মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল শক্ত করতে সহায়তা করেন।
সংগীতাঙ্গনে তাঁর অবদান দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ। বিশেষ করে নজরুল সংগীতের বিশুদ্ধ চর্চা ও পরিবেশনায় তিনি ছিলেন এক অনন্য নাম। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া বহু গান শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। বাংলাদেশ সরকার তাঁর শিল্পীসত্তা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে তাঁকে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার একুশে পদকে ভূষিত করে।
পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন দুই সন্তানের জননী। তাঁদের একজন যুক্তরাষ্ট্রে এবং অন্যজন স্পেনে বসবাস করছেন। জীবনের শেষ সময়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে থাকার চেষ্টা করলেও অসুস্থতা তাঁকে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন করে রাখে।
তিনি ছিলেন দেশের প্রখ্যাত স্থপতিমাজহারুল ইসলাম–এর কন্যা। শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার এক সমৃদ্ধ পারিবারিক ঐতিহ্যের মধ্যেই তাঁর বেড়ে ওঠা।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | ডালিয়া নওশীন |
| বয়স | ৭১ বছর |
| পেশা | নজরুল সংগীতশিল্পী, কণ্ঠযোদ্ধা |
| প্রতিষ্ঠান | স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র |
| প্রধান রোগ | ক্যানসারসহ দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা |
| মৃত্যুর স্থান | ঢাকা, বেসরকারি হাসপাতাল |
| মৃত্যু সময় | বুধবার, দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিট |
| সমাধিস্থল | বনানী কবরস্থান |
| রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি | একুশে পদক (২০২০) |
ডালিয়া নওশীনের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তাঁর কণ্ঠ, তাঁর সংগীতচর্চা এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অবদান দীর্ঘদিন ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সংগীতপ্রেমীরা তাঁকে মনে রাখবে এক নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী হিসেবে, যিনি নিজের কণ্ঠকে দেশের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত করেছিলেন।