খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে চৈত্র ১৪৩২ | ২ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩৪.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মুখপাত্র জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ (BPM-6) হিসাব পদ্ধতির অনুসারে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ২৯.৮১ বিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতার দৃঢ়তার প্রতিফলন।
২০২৬ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। মার্চ মাসে প্রেরিত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার (৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ) হয়েছে, যা এক মাসের ভিত্তিতে দেশের রেকর্ড। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো মারফত ৬৪ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
দুইটি বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে, কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উপর প্রবাসী অর্থের প্রভাবকে আরও দৃঢ় করছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো মারফত পাঠানো রেমিট্যান্স হয়েছে ২৬৪ কোটি ডলার, এবং বিদেশি ব্যাংকগুলো মারফত প্রাপ্ত হয়েছে ১ কোটি ২০ হাজার ডলার।
এই বিপুল রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আমদানি ব্যালান্স ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।
নিচে রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সের বিস্তারিত তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | পরিমাণ/বিবরণ |
|---|---|
| বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ | ৩৪.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার |
| বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ | ২৯.৮১ বিলিয়ন ডলার |
| মার্চ ২০২৬ রেমিট্যান্স | ৩.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার |
| রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে | ৬৪ কোটি মার্কিন ডলার+ |
| কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে | ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার |
| বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে | ২৬৪ কোটি মার্কিন ডলার |
| বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে | ১ কোটি ২০ হাজার মার্কিন ডলার |
| রেকর্ড সূচক | এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স |
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্থ প্রবাহ কেবল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি নয়, বরং স্থানীয় বিনিয়োগ, আমদানি কার্যক্রম, এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী কর্মীদের অবদান দেশের অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের দিকেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সবমিলিয়ে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা এবং রেমিট্যান্সের রেকর্ড বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক দৃঢ়তা, প্রবাসী অর্থের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী মুদ্রার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করছে।