খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
সরকারের বাড়তি অর্থের প্রয়োজন মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বিলের বিশেষ নিলাম আয়োজন করতে যাচ্ছে। আগামী ৮ এপ্রিল একানব্বই দিন মেয়াদি পাঁচ হাজার কোটি টাকার ট্রেজারি বিল নিলামে তোলা হবে। এর মাধ্যমে চলতি মাসে বিশেষ ব্যবস্থায় মোট ঋণ সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়াবে দশ হাজার কোটি টাকায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং প্রত্যাশিত রাজস্ব আহরণে ঘাটতির কারণে এই অতিরিক্ত অর্থসংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভর্তুকি ব্যয়, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের নগদ অর্থের ওপর চাপ বেড়েছে।
ব্যাংক খাতে বিদ্যমান তারল্যের উদ্বৃত্ত পরিস্থিতি সরকারের এই ঋণগ্রহণকে সহজ করেছে। গত মাসের শেষ দিকে ব্যাংকগুলো প্রায় এগারো হাজার পাঁচশ কোটি টাকা স্থায়ী আমানত সুবিধায় জমা রেখেছিল, যা বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহের ইঙ্গিত দেয়। এই উদ্বৃত্ত অর্থকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারি সিকিউরিটিজের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পথ বেছে নিচ্ছে।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করে আসছে, যার ফলে ব্যাংক ব্যবস্থায় স্থানীয় মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগযোগ্য অর্থ তৈরি হয়েছে এবং তারা ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসেবে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।
গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে সরকার নির্ধারিত সময়সূচির বাইরে গিয়ে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। সাধারণত এ ধরনের বিশেষ বা সূচির বাইরের নিলাম সরকারের তাৎক্ষণিক অর্থসংকট মোকাবিলার ইঙ্গিত বহন করে এবং জরুরি ব্যয় নির্বাহে সহায়তা করে।
চলতি এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকের জন্য সরকার স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে মোট এক লাখ দশ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। নির্ধারিত সাপ্তাহিক নিলামের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদের বিল ইস্যু করা হবে।
পরিকল্পিত ঋণসংগ্রহের একটি সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
| বিলের মেয়াদ | নির্ধারিত পরিমাণ (কোটি টাকা) |
|---|---|
| ৯১ দিন | ৪৪,০০০ |
| ১৮২ দিন | ৩৬,০০০ |
| ৩৬৪ দিন | ৩০,০০০ |
| মোট | ১,১০,০০০ |
এর পাশাপাশি সরকার মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে আরও ঊনচল্লিশ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঋণ প্রকৃতপক্ষে নিট নতুন ঋণ নয়। কারণ মেয়াদপূর্তির পর আগের ট্রেজারি বিল ও বন্ড পুনরায় ইস্যুর মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়, যা একটি ধারাবাহিক ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ।
এদিকে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের গতি এখনও মন্থর রয়েছে। বর্তমানে এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ছয় দশমিক শূন্য তিন শতাংশে নেমে এসেছে, যা বিনিয়োগের দুর্বল প্রবণতার প্রতিফলন। ফলে ব্যাংকগুলো ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসেবে সরকারি সিকিউরিটিজে অধিক হারে অর্থ বিনিয়োগ করছে, যা সরকারের ঋণ সংগ্রহকে সহজতর করছে এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।