খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের আজ (৫ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ১১টি ব্যাংক এবং ৩৫টি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টি কোনো কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয় করেনি। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাংকগুলোর মোট সিএসআর ব্যয় বেড়েছে, তবে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অনীহা দেখিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বছরের প্রথমার্ধে ব্যাংকগুলোর মোট সিএসআর ব্যয় ছিল ১৪৭.১৯ কোটি টাকা। জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৭.৮৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সিএসআর ব্যয়ে ৫০.৬৬ কোটি টাকার বৃদ্ধি ঘটেছে।
সিএসআর ব্যয় মূলত কয়েকটি ব্যাংকের মধ্যে কেন্দ্রীভূত। প্রধান ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য নিম্নের টেবিলে দেওয়া হলো:
| ব্যাংকের নাম | সিএসআর ব্যয় (কোটি টাকা) |
|---|---|
| স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক | ২৭.৭১ |
| ব্র্যাক ব্যাংক | ২০.০৪ |
| এক্সিম ব্যাংক | ১৯.৮৫ |
ব্যক্তিগত ব্যাংকগুলো মোট সিএসআর ব্যয়ের ৭৯.১৬% অবদান রেখেছে, যেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অবদান মাত্র ৪.০৯%। এটি প্রমাণ করে যে, ব্যক্তিগত ব্যাংকের তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অংশগ্রহণ অনেক কম।
সিএসআর ব্যয় প্রধানত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সীমাবদ্ধ। মোট ব্যয়ের ৩২.৪৭% শিক্ষা খাতে এবং ২৯.০৭% স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়েছে। একসাথে এই দুই খাত মোট সিএসআর ব্যয়ের প্রায় ৬০% দখল করেছে।
পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু মোকাবেলায় বরাদ্দ ছিল ১৪.৮১%, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০% নির্দেশনার তুলনায় কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের নিট মুনাফার সর্বোচ্চ ১% পর্যন্ত সিএসআর কার্যক্রমে ব্যয় করতে বাধ্য। এর মধ্যে ন্যূনতম ৩০% শিক্ষা খাতে, ৩০% স্বাস্থ্য খাতে এবং ২০% পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু কর্মকাণ্ডে ব্যয় করতে হবে। অবশিষ্ট ২০% আয়ের সৃষ্টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা যেতে পারে।
২০২৫ সালের এই তথ্যগুলো স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, সিএসআর কার্যক্রম এখনও সীমিত ব্যাংক এবং কয়েকটি এনবিএফআইয়ের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও এনবিএফআইগুলোতে অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বরাদ্দ বৃদ্ধি করলে সামাজিক দায়বদ্ধতার লক্ষ্য আরও কার্যকরভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে।