রাজশাহীতে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন এবং বেসরকারি রয়েল হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়। চলতি মৌসুমে এই রোগে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনেই নতুন করে তিনটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় চলতি মৌসুমে হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৪৫ জনে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা স্থানীয় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩২ জন। এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে মোট ৪২৯ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কে. বিশ্বাস জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেসরকারি হাসপাতালের মৃত্যুর তথ্য সরকারি তালিকায় সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হয় না, ফলে মোট মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হামের সংক্রমণ সাধারণত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভোগে বা সময়মতো টিকা গ্রহণ করেনি, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। রোগটির সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, কাশি, চোখে পানি পড়া, শরীরে র্যাশ এবং তীব্র দুর্বলতা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায়ও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডে শয্যাসংকট এবং পর্যাপ্ত আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থার অভাব পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।
নিচে সর্বশেষ পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| সূচক |
তথ্য |
| গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু |
৩ জন (রামেক ১, রয়েল হাসপাতাল ২) |
| চলতি মৌসুমে মোট মৃত্যু |
৪৫ জন |
| রামেক হাসপাতালে ভর্তি রোগী |
১২৩ জন (বর্তমানে চিকিৎসাধীন) |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি |
১৮ জন শিশু |
| গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্রপ্রাপ্ত |
৩২ জন শিশু |
| মোট ভর্তি রোগী (রামেক) |
৪২৯ জন |
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ স্বাস্থ্য অভিযান পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।