খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
সিএনএন: সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উন্মোচন করেছেন যা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রভাগ সম্পর্কিত। তারা নিশ্চিত করেছেন যে, পৃথিবীর কেন্দ্রের ঘূর্ণন সম্প্রতি উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করেছে, এবং এর আকৃতিতে পরিবর্তন ঘটেছে। এটি পৃথিবীর গভীরতম স্তরের নতুন এক রহস্য উন্মোচন করেছে, যা গ্রহবিজ্ঞানীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার।
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কেন্দ্র এক ধরনের গরম, কঠিন ধাতব বলসদৃশ উপাদান দিয়ে তৈরি, এবং এর চারপাশে রয়েছে তরল ধাতবের স্তর। বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা অনুমান করছিলেন যে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কেন্দ্র বিকৃত হতে পারে। তবে এবার, প্রথমবারের মতো তাঁরা প্রমাণ পেয়েছেন যে, গত ২০ বছরে ভূ–কেন্দ্রের আকৃতিতে বিকৃতি ঘটেছে, যা ভূমিকম্পের তরঙ্গের মাধ্যমে শনাক্ত করা গেছে।
গবেষণার ফলাফলটি প্রকাশিত হয়েছে *নেচার জিওসায়েন্স* সাময়িকীতে, এবং এটি পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রভাগের ঘূর্ণন নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষভাবে, নতুন গবেষণায় ভূ–কেন্দ্রের ঘূর্ণনের গতির পরিবর্তন এবং আকৃতির বিকৃতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ২০১০ সালের শুরুর দিকে, পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রের ঘূর্ণন মন্থর হতে শুরু করেছিল এবং বর্তমানে এটি পৃথিবীর অন্যান্য অংশের তুলনায় উল্টো দিকে ঘুরছে।
এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক জন ভিদেল, যিনি জানিয়েছেন যে, এই নতুন তথ্য থেকে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রের গঠন ও তার কার্যক্রম সম্পর্কিত নতুন ধারণা পাওয়া যাবে। এছাড়া, ভূ–কেন্দ্রের আকৃতির পরিবর্তন পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের শক্তির উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে, যা আমাদের গ্রহকে সৌর ঝড় এবং প্রাণঘাতী বিকিরণ থেকে রক্ষা করে।
এই গবেষণাটি শুধু পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রের ঘূর্ণন সম্পর্কিত দীর্ঘদিনের বিতর্ককে উসকে দেবে, তা নয়, এটি পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ শক্তির গতিবিধির একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও প্রদান করবে। গবেষকেরা জানিয়েছেন যে, ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সংঘটিত ভূমিকম্পের তরঙ্গ সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁরা এই ফলাফলটি পেয়েছেন।
নিউ জার্সির রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ইয়োশি মিয়াজাকি বলেন, এই নতুন গবেষণা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রের ঘূর্ণন এবং আকৃতির পরিবর্তনের বিষয়ে আরও গভীর আলোচনা শুরু করবে। তিনি আশা করছেন যে, এটি বিজ্ঞানীদের মধ্যে আরও বিতর্কের সৃষ্টি করবে এবং পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কেন্দ্র সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান আরও বাড়াবে।
খবরওয়ালা/এমবি