খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
এশিয়ার ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ২৪ থেকে বাড়িয়ে ৩২ করা হচ্ছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এই সিদ্ধান্তকে তাদের প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এএফসি জানিয়েছে, এই সম্প্রসারণের লক্ষ্য হলো প্রতিযোগিতায় আরও বেশি দেশ ও ক্লাবকে অন্তর্ভুক্ত করা, একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার মান ও গভীরতা বৃদ্ধি করা। সংস্থাটি মনে করছে, এ পরিবর্তনের মাধ্যমে এশিয়ান ক্লাব ফুটবলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং নতুন প্রতিভা আন্তর্জাতিক মঞ্চে উঠে আসার সুযোগ পাবে।
এএফসি স্পষ্ট করেছে, এই নতুন কাঠামো কার্যকর হবে তাদের নির্বাহী কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর। অনুমোদন পেলে এটি আগামী মৌসুম থেকেই বাস্তবায়ন করা হবে। সংস্থাটি একে “ঐতিহাসিক সম্প্রসারণ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যা এশিয়ান ফুটবলের ভবিষ্যৎ কাঠামোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।
বর্তমানে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে গ্রুপপর্ব দুইটি অঞ্চলে বিভক্ত—ইস্ট জোন ও ওয়েস্ট জোন। নতুন কাঠামোতেও এই বিভাজন বজায় থাকবে, তবে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ার কারণে গ্রুপ পর্যায়ের বিন্যাসে পরিবর্তন আসবে।
২০২৬-২৭ মৌসুম থেকে প্রতিটি জোনে দলের সংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৬ করা হবে। এতে করে গ্রুপপর্ব আরও বিস্তৃত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করছে এএফসি।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ ছয়টি দল সরাসরি নকআউট পর্বের শেষ ১৬-তে (রাউন্ড অব ১৬) জায়গা করে নেবে। পাশাপাশি সপ্তম থেকে দশম স্থানে থাকা দলগুলো নতুনভাবে চালু হওয়া প্লে-অফ পর্বে অংশ নেবে, যেখানে তারা শেষ ১৬-তে ওঠার জন্য অতিরিক্ত সুযোগ পাবে।
| বিষয় | নতুন কাঠামো |
|---|---|
| মোট দল | ২৪ থেকে ৩২ |
| গ্রুপ বিভাজন | ইস্ট জোন ও ওয়েস্ট জোন |
| প্রতিটি গ্রুপে দল | ১৬টি (২০২৬-২৭ থেকে) |
| সরাসরি শেষ ১৬ | শীর্ষ ৬ দল |
| প্লে-অফ সুযোগ | ৭ম–১০ম স্থানধারী দল |
| কাঠামোর ধরন | বিস্তৃত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক |
এএফসি তাদের ঘোষণায় জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো “অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং উৎকর্ষতা উন্নীত করা।” অর্থাৎ, এশিয়ার আরও বেশি ক্লাবকে উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার মানকে আরও উন্নত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে অপেক্ষাকৃত ছোট ফুটবল দেশগুলোর ক্লাবগুলোর জন্যও শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে এশিয়ান ফুটবলের সামগ্রিক মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ মৌসুম থেকে প্রতিযোগিতাটির নাম পরিবর্তন করে “এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিট” রাখা হয়েছে। এটি এএফসির দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে ২০২৫-২৬ মৌসুমের শেষ ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বের ম্যাচগুলো সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ফুটবল বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নেরও প্রতিফলন।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্প্রসারণ এশিয়ান ক্লাব ফুটবলে প্রতিযোগিতা, বাণিজ্যিক মূল্য এবং দর্শক আগ্রহ—সব ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বড় সংখ্যক দলের অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টকে আরও দীর্ঘ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করবে, যা ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সঙ্গে ব্যবধান কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
সব মিলিয়ে, এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের এই ৩২ দলীয় নতুন যুগ এশিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতার কাঠামোকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিতে পারে।