খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর পরিচিত আব্দুর রহমান ওরফে শামীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, মামলার প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন আসামি প্রকাশ্যেই এলাকায় চলাফেরা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে মামলার ২ নম্বর আসামি উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে নিজ এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরতে দেখা যায়। হোসেনাবাদ বাজার–ফিলিপনগর সড়কে একটি কালো মোটরসাইকেলে তার চলাচলের দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, মামলার প্রধান আসামি জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ খাজা আহম্মেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে বিভিন্ন মন্তব্য ও রাজনৈতিক পোস্ট শেয়ার করছেন। সর্বশেষ তাকে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল সংক্রান্ত পোস্ট শেয়ার করতে দেখা যায়।
ঘটনার পরও আসামিদের প্রকাশ্যে চলাফেরা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এত বড় একটি হত্যাকাণ্ডের পরও কীভাবে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে থাকতে পারছে।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, “এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রায় ২৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের প্রোফাইল তৈরি করা হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।”
তিনি আরও বলেন, আসামিদের প্রকাশ্যে ঘোরাফেরার বিষয়টি পুলিশও অবগত হয়েছে এবং যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলার তদন্তে ধীরগতি এবং আসামিদের প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে নিহত আব্দুর রহমানের ভক্ত ও এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার, যখন আব্দুর রহমান ওরফে শামীমকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিচে মামলার বর্তমান অবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| হত্যার তারিখ | গত শনিবার |
| মামলা দায়ের | সোমবার রাত |
| মামলার বাদী | ফজলুর রহমান (নিহতের ভাই) |
| মোট আসামি | ৪ জন নামীয়, ১৮০–২০০ অজ্ঞাত |
| শনাক্তকৃত সন্দেহভাজন | প্রায় ২৫ জন |
| গ্রেপ্তার | এখনো হয়নি |
| তদন্ত সংস্থা | দৌলতপুর থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশ |
স্থানীয়দের মতে, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তারা দ্রুত গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, দৌলতপুরের এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ও প্রশ্ন ক্রমশ বাড়ছে। পুলিশ আশ্বাস দিলেও বাস্তব অগ্রগতি না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।