খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২১ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নোয়াখালী জেলা কারাগারে বসে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন মাহবুব এলাহী রাজিন (১৫) নামে এক কিশোর। একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে বর্তমানে তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকলেও আদালতের বিশেষ অনুমতি ক্রমে এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
মাহবুব এলাহী রাজিন নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং নোয়ান্নই উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (কিশোর সংশোধনাগার) পাঠানো হয়েছিল।
পরীক্ষার সময়সূচি নিকটবর্তী হওয়ায় রাজিনের পক্ষ থেকে আইনি লড়াই চালানো হয়। পরবর্তীতে তার শিক্ষা জীবনের কথা বিবেচনা করে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে কারাগারে বসে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি প্রদান করেন। আদালতের সেই আদেশ মোতাবেক তাকে গাজীপুর থেকে নোয়াখালী জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে রাজিনের এই শিক্ষাসফর শুরু হয়। যদিও রাজিনের নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল নোয়াখালী জিলা স্কুল, কিন্তু আইনি জটিলতা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে কেন্দ্রে পাঠানো সম্ভব হয়নি। শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, কারাগারের ভেতরেই তার জন্য বিশেষ কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নোয়াখালী জিলা স্কুলের তত্ত্বাবধানে এবং কারাগার কর্তৃপক্ষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে এই পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শক উপস্থিত থেকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছেন।
নোয়াখালী কারাগারের জেল সুপার আ. বারেক গণমাধ্যমকে জানান যে, রাজিন মূলত গাজীপুর কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রের অধীনে ছিল। শুধুমাত্র এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে আদালতের নির্দেশে তাকে নোয়াখালী কারাগারে আনা হয়েছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, রাজিনের অবশিষ্ট সকল পরীক্ষাও একই প্রক্রিয়ায় কারাগারের অভ্যন্তরে বিশেষ ব্যবস্থায় গ্রহণ করা হবে। তার জন্য কারাগারের ভেতরে উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
চলতি বছর নোয়াখালী জেলায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী এবং কেন্দ্রের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| পরীক্ষার ধরণ | পরীক্ষার্থীর সংখ্যা | কেন্দ্রের সংখ্যা |
| এসএসসি (সাধারণ) | ২৫,১০৭ জন | – |
| দাখিল | ৮,৬৭১ জন | – |
| ভোকেশনাল | ১,৭২৩ জন | – |
| সর্বমোট | ৩৫,৫০১ জন | ৭৫টি |
বাংলাদেশে কারাবন্দি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ঘটনা নতুন নয়। দেশের প্রচলিত আইন ও জেল কোড অনুযায়ী, বিচারাধীন কয়েদি বা সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা যদি শিক্ষার্থী হন, তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আদালতের আবেদন সাপেক্ষে তারা পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। মাহবুব এলাহী রাজিনের ক্ষেত্রেও এই আইনি সুযোগটি প্রয়োগ করা হয়েছে।
চলতি বছর নোয়াখালী জেলায় মোট ৭৫টি কেন্দ্রে ৩৫ হাজার ৫০১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (দাখিল) এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। রাজিনের এই বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা প্রদান জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। যথাযথ পুলিশি পাহারায় এবং কঠোর গোপনীয়তায় তার উত্তরপত্র সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।