বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবা ইয়াছমিন রীতা আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর গত ২৩ এপ্রিল রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বগুড়ার টিএমএসএস ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষা অঙ্গনসহ সর্বস্তরে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মাহবুবা ইয়াছমিন রীতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৯৮৮ সালের স্নাতকোত্তর ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষাজীবনে তিনি শুধু মেধাবী ছাত্রী হিসেবেই নয়, নেতৃত্বগুণের জন্যও সুপরিচিত ছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় ক্যাম্পাসে তিনি একজন সচেতন, দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার পর তিনি বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পাঠদানের ধরন ছিল স্পষ্ট, বিশ্লেষণধর্মী ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক। ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই নয়, বাস্তব জীবন সম্পর্কে সচেতনতা ও মূল্যবোধও তাঁর কাছ থেকে অর্জন করত। সহকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন নীতিবান, পরিশ্রমী ও সহযোগিতাপরায়ণ একজন শিক্ষক।
নিচের সারণিতে তাঁর জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| নাম |
মাহবুবা ইয়াছমিন রীতা |
| পেশা |
প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক |
| শিক্ষা |
রাষ্ট্রবিজ্ঞান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (স্নাতকোত্তর, ১৯৮৮) |
| গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা |
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সম্পাদিকা |
| কর্মস্থল |
বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ |
| মৃত্যুর তারিখ |
২৩ এপ্রিল |
| মৃত্যুর সময় |
রাত ১১টা ৫০ মিনিট |
| মৃত্যুর স্থান |
টিএমএসএস ক্যান্সার সেন্টার, বগুড়া |
| মৃত্যুর কারণ |
ক্যান্সারজনিত জটিলতা |
দীর্ঘ রোগভোগের মধ্যেও তিনি মানসিক দৃঢ়তা হারাননি। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলতেন। তাঁর সাহসিকতা ও ইতিবাচক মনোভাব অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ছিল।
তাঁর মৃত্যুতে বিশেষ করে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ পরিবারের মাঝে শোকের আবহ বিরাজ করছে। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সামাজিক মাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন। অনেকেই উল্লেখ করেছেন, তাঁর আন্তরিকতা, স্নেহ ও দিকনির্দেশনা তাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মাহবুবা ইয়াছমিন রীতা ছিলেন একজন মানবিক, দায়িত্বশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষক। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান এবং ব্যক্তিত্বের প্রভাব দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
আল্লাহ্ তায়ালা মরহুমাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন—এমন প্রার্থনা জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা।