খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে ২০২৬
রাজধানীর গুলশান এলাকায় তিতাস গ্যাসের প্রধান পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাড্ডা, গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় গ্যাস সরবরাহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার (৩ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলো রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এবং বাণিজ্যিক হোটেলগুলোতে খাবারের তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ায় এক নজিরবিহীন ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার সকালে গুলশান-১ চত্বর এলাকায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলাকালীন তিতাস গ্যাসের একটি উচ্চচাপ সম্পন্ন পাইপলাইন ফেটে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ওই অঞ্চলের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, লাইনে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। এর ফলে গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং উত্তর ও মধ্য বাড্ডা এলাকার কয়েক লাখ গ্রাহক গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বাড্ডা ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
সকাল থেকে গ্যাস না থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার গৃহিণীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অধিকাংশ পরিবারে দুপুরের খাবার রান্না করা সম্ভব হয়নি। মধ্যবাড্ডার ময়নারবাগ এলাকার বাসিন্দা সীমা আক্তার জানান, সকালে নাস্তা তৈরি করার পর দুপুরে রান্না শুরু করতে গিয়ে তিনি দেখেন চুলা জ্বলছে না। আগে থেকে কোনো ঘোষণা না থাকায় কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তার মতো হাজারো গৃহিণী দুপুরের খাবার হিসেবে শুকনো খাবার বা দোকান থেকে কেনা পাউরুটি ও কলার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্বজনরা, কারণ দীর্ঘ সময় গরম খাবারের অভাবে শিশুদের মধ্যে শারীরিক ক্লান্তি ও অসুস্থতা দেখা দিচ্ছে।
বাসাবাড়িতে রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর থেকেই এলাকার বাসিন্দারা নিকটস্থ হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। বাড্ডা হোসেন মার্কেট থেকে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোড পর্যন্ত এলাকায় অবস্থিত প্রতিটি খাবারের দোকানেই দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়।
খাবারের সংকট: সাধারণ দিনে হোটেলগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত খাবার পাওয়া গেলেও এই বিশেষ পরিস্থিতিতে অনেক দোকানে রাত ৮টার আগেই সব খাবার শেষ হয়ে যায়। মধ্যবাড্ডার ‘মা বিরিয়ানি হাউজ’ এবং গুলশান লিংক রোডের ‘নয়ন বিরিয়ানি হাউজ’-এর সামনে কয়েকশ মানুষের জটলা দেখা যায়। অনেক ক্রেতা ভিড়ের কারণে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করতেও ব্যর্থ হন।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য: নান্না বিরিয়ানির পরিবেশক আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার অবশিষ্ট থাকে, আজ তার বিপরীতে কয়েকগুণ বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে। আদর্শনগর এলাকার দোকানগুলো বাড়তি খাবার রান্না করেও ক্রেতাদের সামাল দিতে পারছে না। অনেক হোটেল মালিক চাহিদা মেলাতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে খাবার তৈরির কাজ শুরু করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
সরেজমিনে বাড্ডা ও গুলশান এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভাতের হোটেলগুলোতে ভিড় এতই বেশি যে অনেক জায়গায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খাবার না পেয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে ছুটছেন সাধারণ মানুষ। মোহাম্মদ আজম নামে এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে খেতে এসেছিলেন, কিন্তু হোটেলের বাইরের পরিস্থিতি দেখে ভেতরে ঢোকার সাহস পাননি।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর অনেক দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্রেতারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অধিকাংশ ছোট ছোট হোটেল ও ভাতের দোকানে চাল-ডাল ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা দোকান বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, বড় রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেককে।