খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া পরিচয় (ফেক আইডি) ব্যবহার করে কুরুচিপূর্ণ বার্তা প্রেরণ এবং ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আজ রবিবার (৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত। প্রক্টর বরাবর দেওয়া চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, একই বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে শামীম উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল মন্তব্য করে আসছেন। এমনকি ওই ছাত্রীর ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টাও চালানো হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার্থী আরও জানান, ক্রমাগত এই মানসিক নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ইতিপূর্বে স্থানীয় হাটহাজারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারস্থ হওয়ার পরেও হয়রানি বন্ধ হয়নি। বরং ২ মে একটি নতুন ফেক আইডি থেকে তার ফেসবুক ইনবক্সে পুনরায় হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। পূর্বের ঘটনাক্রম ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর দৃঢ় বিশ্বাস যে, এই নতুন আইডি এবং হুমকির নেপথ্যেও শামীম উদ্দিনেরই সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে। সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বক্তব্য গ্রহণ করা হবে এবং উভয় পক্ষের তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্তমানে বিষয়টির প্রাথমিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
উল্লেখ্য যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানি বা ইভটিজিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে বহিষ্কারসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। প্রক্টর দপ্তর থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন। তার মতে, রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই অভিযোগ দায়ের করেছে। শামীম উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই ঘটনার সাথে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই এবং অভিযোগের পক্ষে কোনো বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণও নেই। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী তার পত্রে উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘদিনের এই ধারাবাহিক হয়রানি তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার পাশাপাশি তিনি চরম মানসিক অস্থিরতার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। তার পরিবারও বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। বারবার ফেক আইডি থেকে কুরুচিপূর্ণ বার্তা আসা এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকির ফলে তার শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সাইবার বুলিং প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা মনে করেন, যদি অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত।
বর্তমানে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্তাধীন। হাটহাজারী থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগকারীর পূর্ববর্তী সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে নতুন করে আসা হুমকির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তদন্তের প্রতিবেদন আসার পরেই স্পষ্ট হবে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এই সাইবার হয়রানির সূত্রপাত হয়েছে।
সংবাদটি লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অন্য কোনো নেতার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে যাতে দোষী ব্যক্তি চিহ্নিত হয় এবং ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার লাভ করেন।