কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ইয়াবাসহ চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ। সোমবার (৪ এপ্রিল) ভোররাতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা এলাকা এবং একই উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় গোমতী সেতুর টোলপ্লাজায়। সেখানে একটি মালবাহী যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
একই দিনে দ্বিতীয় অভিযান পরিচালিত হয় দাউদকান্দি উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকায়। সেখানে মহাসড়কের পাশে মাদক বিক্রির সময় অভিযান চালিয়ে ৫২ পিস ইয়াবাসহ আরও দুইজনকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের সন্দেহজনক চলাচলের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালায় বলে জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে তাদের কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার ও জব্দকৃত তথ্য
| নাম |
বয়স |
ঠিকানা |
জব্দকৃত মাদক |
| মো. রানা ব্যাপারী |
৩৮ |
মাদারীপুর সদর, কালিকাপুর |
১৫ কেজি গাঁজা |
| মো. সজিব |
৩১ |
পটুয়াখালী, সুলতানপুর |
১৫ কেজি গাঁজা |
| মো. সুজন |
২৬ |
দাউদকান্দি, মোহাম্মদপুর |
৫২ পিস ইয়াবা |
| মো. বাবুল |
৩৫ |
দাউদকান্দি |
৫২ পিস ইয়াবা |
দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবহার করে যাতে কোনো ধরনের মাদক পরিবহন বা বাণিজ্য না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানে বড় ধরনের মাদক চালান আটক করা সম্ভব হয়েছে, যা এলাকায় মাদক চক্রের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয় ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃজেলা মাদক পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনও এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে এবং মাদক নির্মূলে জনগণকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারির মাধ্যমে এলাকায় মাদক ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।