খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
মেহেরপুর পৌর শহরের শেখপাড়ায় সীমানাদেয়াল সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে এক রিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীর উপস্থিতিতে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ব্যক্তির নাম গোলাম হোসেন (৪৬)। তিনি ওই এলাকার ইয়াসিন আলীর ছেলে এবং পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে তাঁর খালাতো ভাই সামিরুল ইসলামের নাম জানা গেছে। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ২ তারিখে রিকশা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গোলাম হোসেনের কারণে প্রতিবেশী বন্যা খাতুনের বাড়ির সীমানাদেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে গোলাম হোসেন নিজ উদ্যোগে ভাঙা অংশ মেরামত করে দেন। তবে এরপর টিনের ফটক স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন বিকেলে গোলাম হোসেন রিকশা নিয়ে বের হওয়ার সময় বন্যা খাতুন তাঁর পথরোধ করেন এবং ফটক সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধানের জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে তিনি রিকশায় তালা লাগিয়ে দেন এবং মুঠোফোনে সামিরুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে ডাকেন বলে জানা যায়।
পরে সামিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন্যা খাতুনের পক্ষ নিয়ে গোলাম হোসেনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, এক পর্যায়ে সামিরুল ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে গোলাম হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। এ সময় নিহতের স্ত্রী আলেয়া খাতুন ও স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
আহত অবস্থায় স্থানীয়রা গোলাম হোসেনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | গোলাম হোসেন (৪৬) |
| পিতা | ইয়াসিন আলী |
| পেশা | রিকশাচালক |
| ঘটনা স্থল | শেখপাড়া, মেহেরপুর পৌর শহর |
| ঘটনার সময় | মঙ্গলবার সন্ধ্যা |
| অভিযুক্ত | সামিরুল ইসলাম (খালাতো ভাই) |
| ঘটনার কারণ | সীমানাদেয়াল ও টিনের ফটক নিয়ে বিরোধ |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | ধারালো হাঁসুয়া |
| ফলাফল | হাসপাতালে মৃত ঘোষণা |
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সামিরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।