নন-লাইফ বীমা খাতে ব্যক্তি এজেন্ট কমিশন শূন্য শতাংশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ভিজিল্যান্স টিমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই ও শুনানি কমিটির তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত শনিবার দ্বিতীয় মে তারিখে বাংলাদেশ বীমা সমিতির একটি সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অভিযোগ শুনানি কমিটির আহ্বায়ক বেলাল আহমেদ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠানে এজেন্ট কমিশন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ শূন্য শতাংশে নিয়ে আসার জন্য একটি সুসংগঠিত তদারকি কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ বীমা সমিতি এগারো সদস্যবিশিষ্ট একটি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করেছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকেও সাত সদস্যের পৃথক আরেকটি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। উভয় টিম যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে এবং কমিশন সংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিরোধে কাজ করছে।
সভায় জানানো হয়, কমিশন সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা প্রথমে বীমা তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হয়। এরপর প্রাথমিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেলে সেটি পরবর্তী ধাপে শুনানি কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়।
শুনানি কমিটি সংশ্লিষ্ট বীমা প্রতিষ্ঠান এবং অভিযোগকারী পক্ষ উভয়কে শুনানির সুযোগ প্রদান করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য, নথি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কমিশন ব্যবস্থাকে নীতিমালার মধ্যে রাখা।
নিচের টেবিলে অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার ধাপগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| ধাপ |
কার্যক্রম |
| প্রথম ধাপ |
কমিশন সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ |
| দ্বিতীয় ধাপ |
বীমা তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাই |
| তৃতীয় ধাপ |
প্রাথমিক সত্যতা নির্ধারণ |
| চতুর্থ ধাপ |
ভিজিল্যান্স টিমে উপস্থাপন |
| পঞ্চম ধাপ |
উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ |
| ষষ্ঠ ধাপ |
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ |
সভায় আরও বলা হয়, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নন-লাইফ বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং কমিশন সংক্রান্ত অনিয়ম ও স্বার্থসংঘাত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি বীমা শিল্পে সুশাসন প্রতিষ্ঠা আরও শক্তিশালী হবে।
ভবিষ্যতে এই তদারকি কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। কমিশন শূন্য শতাংশ বাস্তবায়নকে সফলভাবে কার্যকর করার জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে সভায় জানানো হয়।