খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটল।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী পশ্চিম বেকা প্রদেশের জলায়া (Zellaya) শহরে লক্ষ্যভেদী হামলা চালায়। এই হামলায় একটি আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই চারজন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও একজন বৃদ্ধ রয়েছেন।
হামলায় নিহতের পাশাপাশি অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের বয়সই অতি অল্প, যা ওই এলাকায় বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা নির্দেশ করে। উদ্ধারকর্মীরা আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেছেন এবং তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (NNA) জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর তৎপরতা কেবল পশ্চিম বেকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দক্ষিণ লেবাননের টায়ার জেলাতেও ব্যাপক বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালানো হয়েছে। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী:
আলমা আল-শাব ও তাইর হারফা: এই দুই এলাকায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
মাজদাল জৌন ও বেইত আল-সায়াদ: টায়ার শহরের দক্ষিণাঞ্চলীয় এই গ্রামগুলোতে ভারী কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
আল-মানসুরি: এই অঞ্চলের উপকণ্ঠেও ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ চালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
নিচে উল্লিখিত সারণিতে সাম্প্রতিক এই হামলার প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| হামলার ধরণ | এলাকা/শহর | হতাহতের সংখ্যা | অতিরিক্ত তথ্য |
| বিমান হামলা | জলায়া, পশ্চিম বেকা | ৪ নিহত, ৫ আহত | নিহতদের মধ্যে ২ নারী ও ১ বৃদ্ধ; আহতদের মধ্যে ৩ শিশু। |
| বিমান হামলা | আলমা আল-শাব ও তাইর হারফা | তথ্য পাওয়া যায়নি | অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। |
| কামানের গোলাবর্ষণ | মাজদাল জৌন | নির্দিষ্ট নয় | জনবসতির নিকটবর্তী এলাকায় গোলাবর্ষণ। |
| কামানের গোলাবর্ষণ | বেইত আল-সায়াদ ও আল-মানসুরি | নির্দিষ্ট নয় | কৃষিজমি ও উপকণ্ঠ লক্ষ্য করে হামলা। |
ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্তে গত কয়েক মাস ধরে চলমান অস্থিতিশীলতা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের বিশাল এলাকা এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে, এই হামলার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) সাধারণত এই ধরনের হামলার পেছনে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর উপস্থিতির দাবি করে থাকে, তবে জলায়া শহরে নিহতদের মধ্যে নারী ও বৃদ্ধের উপস্থিতি এবং শিশুদের আহত হওয়ার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এখন পর্যন্ত এই সুনির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে টায়ার ও বেকা উপত্যকার পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত থমথমে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।