খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) সমকামিতার অভিযোগে তিন শিক্ষার্থীকে আটক করার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৬ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হ্যাভেন সিটি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক শিক্ষার্থীরা হলেন ফিশারিজ অনুষদের ২৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাউসার (নাটোর), ২৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মনিরুল (নাটোর) এবং একই ব্যাচের রবিউল (পাবনা)।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের দাবি, আটক শিক্ষার্থীদের আচরণ নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ ছিল। সেই সন্দেহের ভিত্তিতে বিকেল থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে রাতের দিকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়। এরপর তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আটক ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সমকামী গ্রুপ এবং ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কথোপকথনের কিছু অংশও দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়।
তবে অভিযুক্তদের মধ্যে মনিরুল অভিযোগের বিষয়ে তার অবস্থান তুলে ধরে বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন এবং মেয়েদের প্রতি তার আগ্রহ নেই। তিনি দাবি করেন, তিনি কাউকে প্ররোচিত করেননি বা কোনো ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।
অন্যদিকে রবিউল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সমকামী নন। মনিরুলের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
আটক অপর শিক্ষার্থী কাউসার বলেন, তিনি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। তিনি কোনো ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, সিনিয়রদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি ওই স্থানে গিয়েছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের আচরণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।