খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের বিপ্লব-পূর্ববর্তী পতাকা এবং এর প্রতীকসংবলিত পোশাক বা সরঞ্জাম স্টেডিয়ামে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। মার্কিন ক্রীড়া গণমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনৈতিক, আপত্তিকর ও বৈষম্যমূলক বার্তা বহনকারী যেকোনো সামগ্রী প্রদর্শন রোধের নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। ফিফা তাদের বিদ্যমান স্টেডিয়াম কোড অব কন্ডাক্টের ভিত্তিতে এই অবস্থান বজায় রাখছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরানে ব্যবহৃত জাতীয় পতাকায় ‘সিংহ ও সূর্য’ প্রতীক ছিল। বিপ্লবের পর এই প্রতীক পরিবর্তন করা হয় এবং বর্তমান পতাকা চালু হয়। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত কিছু প্রবাসী ইরানি এই পুরোনো পতাকাকে ঐতিহাসিক পরিচয়, রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান প্রকাশের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।
ফিফার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপে দর্শকরা কি এই পুরোনো পতাকা বা এর প্রতীক সংবলিত পোশাক ব্যবহার করতে পারবেন কি না। এর জবাবে ফিফা জানায়, তাদের স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক, আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক বার্তা বহনকারী সামগ্রী প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এই নিয়মের আওতায় সংশ্লিষ্ট পতাকা ও প্রতীকও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর আগে ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সে সময় গ্যালারিতে বিপ্লব-পূর্ববর্তী পতাকা বহনকারী বা বর্তমান ইরান সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান লেখা পোশাক পরা দর্শকদের অনেককে স্টেডিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই সময় নিরাপত্তা কর্মীরা ফিফার আচরণবিধি অনুসরণ করে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
ফিফা দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে। সংস্থাটির অবস্থান অনুযায়ী, দর্শকদের নিরাপত্তা ও টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই ধরনের বিধিনিষেধের মূল উদ্দেশ্য।
২০২৬ বিশ্বকাপ উত্তর আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টকে ঘিরে নিরাপত্তা ও আচরণবিধি আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিফা, যার অংশ হিসেবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতীক ও বার্তা বহনের ওপর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।