দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই সহোদর শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে উপজেলার খয়েরবাড়ি কুটিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মাত্র কয়েক মুহূর্তের অসাবধানতা ও শিশুসুলভ কৌতূহল মুহূর্তেই দুটি পরিবারের স্বপ্নকে থামিয়ে দেয়। একই পরিবারের দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহত দুই শিশু হলো ছয় বছর বয়সী সাবিয়া জান্নাত এবং চার বছর বয়সী মো. সিয়াম। তারা আপন ভাই–বোন। তাদের বাবা শাহিন আলম পেশায় একজন মুদিদোকানি এবং বাড়ির পাশেই তাঁর একটি দোকান রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে শিশুরা বাড়ির পাশের খেলার মাঠে খেলছিল। ওই মাঠের এক পাশে রয়েছে একটি পুকুর। সকালবেলায় শিশুর মা কেয়া বেগম বাড়িতে নাশতা তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং বাবা দোকান খুলতে ব্যস্ত ছিলেন। এ সুযোগে সাবিয়া, সিয়ামসহ কয়েকজন শিশু মাঠে খেলাধুলায় মেতে ওঠে।
খেলার এক পর্যায়ে পুকুরের পানিতে একটি বোতল ভাসতে দেখে ছোট ভাই সিয়াম সেটি তুলতে পুকুরের কাছে যায়। বোতল ধরার চেষ্টা করতে গিয়ে সে হঠাৎ পা পিছলে পানিতে পড়ে যায় এবং ডুবে যেতে থাকে। ভাইয়ের এই বিপদ দেখে বোন সাবিয়া তাকে বাঁচাতে দ্রুত পুকুরে নেমে পড়ে। কিন্তু সেও পানির গভীরতায় তলিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে দুই শিশু পানিতে হারিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে থাকা আরেক শিশু আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত পুকুরে নেমে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পুকুরটি খেলার মাঠের খুব কাছাকাছি হওয়ায় প্রায়ই শিশুরা সেখানে খেলতে যেত। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি আগে থেকেই ছিল।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানানো হয়েছে এবং সার্বিক সহযোগিতার চেষ্টা চলছে।
নিচে নিহত দুই শিশুর সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো—
নাম
বয়স
সম্পর্ক
ঘটনা
সাবিয়া জান্নাত
৬ বছর
বড় বোন
ভাইকে বাঁচাতে পানিতে নেমে ডুবে যায়
মো. সিয়াম
৪ বছর
ছোট ভাই
বোতল তুলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায়
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।