ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সহোদরকে গুলি করে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। পরিকল্পিতভাবে একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ইয়ারপুর ইউনিয়নের ছয়তলা এলাকার ভার্চুয়াল পোশাক কারখানার পাশের গলিতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন মো. ইসমাইল (৩৫) ও মো. শিপন (৩২)। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় কেবল টিভি ও ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এলাকায় মাঝেমধ্যেই ছোটখাটো সংঘর্ষ ও হুমকির ঘটনা ঘটছিল বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে তিনটি যানবাহনে করে একদল যুবক প্রথমে ইসমাইলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার পিঠ ও ডান পায়ে গুলি লাগে এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার কয়েক মিনিট পর একই দলটি আশপাশের এলাকায় গিয়ে শিপনের ওপরও গুলি চালায়। এতে তার ডান উরু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুরো হামলা কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ করে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সবুজ সরকার বলেন, শিপন তার সঙ্গে কাজ করতেন। কে বা কারা কেন এমন হামলা চালিয়েছে তা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না। তিনি মনে করেন, সঠিক তদন্ত হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আহত দুইজনের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—
বিষয়
তথ্য
আহত ব্যক্তি
মো. ইসমাইল, মো. শিপন
বয়স
৩৫ বছর, ৩২ বছর
ঘটনার সময়
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা
স্থান
ইয়ারপুর ইউনিয়ন, আশুলিয়া
আঘাত
পিঠ, ডান পা, ডান উরু
চিকিৎসা কেন্দ্র
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কেবল টিভি ও ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কারণেই এই হামলা ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, আহতদের পরিবারের কেউ এখনো থানায় এসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি, কারণ তারা বর্তমানে হাসপাতালে অবস্থান করছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে এবং হামলাকারীদের শনাক্তে একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।