রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কাঠালপাড়া গ্রামে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত দুই কিশোর হলো কাঠালপাড়া গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে তামিম (১৩) এবং সুরুজ মিয়ার ছেলে সাদমান (১৪)। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই ছিলেন। অল্প বয়সেই তাদের এ আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও প্রতিবেশীরা গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরের দিকে চার বন্ধু মিলে বাড়ির পাশে থাকা একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। গরমের কারণে তারা সবাই পানিতে নামলেও একপর্যায়ে তামিম ও সাদমান পুকুরের গভীর অংশে চলে যায়। সাঁতার না জানার কারণে অথবা পানির গভীরতা বুঝতে না পারায় তারা মুহূর্তের মধ্যেই তলিয়ে যেতে থাকে।
তাদের সঙ্গে থাকা অপর দুই বন্ধু বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করে সাহায্যের জন্য ডাকাডাকি করতে থাকে। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর পানির নিচ থেকে দুই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত তাদের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ নিহতদের বাড়িতে ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রাম ভারী হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীরা জানান, দুই কিশোরই ছিল শান্ত স্বভাবের এবং স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। তাদের এমন অকাল মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না।
চতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজকেই নাড়িয়ে দেয়। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেন।
নিম্নে নিহত দুই কিশোরের পরিচিতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
নাম
বয়স
পিতা
গ্রামের নাম
সম্পর্ক
তামিম
১৩ বছর
নুরু মিয়া
কাঠালপাড়া
চাচাতো ভাই
সাদমান
১৪ বছর
সুরুজ মিয়া
কাঠালপাড়া
জেঠাতো ভাই
স্থানীয়দের মতে, এ অঞ্চলে বর্ষা মৌসুম ও গরমের সময় পুকুরে গোসল করতে গিয়ে শিশু-কিশোরদের দুর্ঘটনায় পড়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সচেতনতা এবং অভিভাবকদের নজরদারির অভাবে এমন দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে তারা মনে করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি শিশুদের নিরাপদ পানিতে সাঁতার শেখানো ও অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।