খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার সর্বশেষ দিনে ঢাকার প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুরে দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। এর মধ্যে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সময়সূচি সম্পূর্ণ এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় শত শত যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্ল্যাটফর্মে স্টেশনের মেঝেতে চরম অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন স্টেশনে না পৌঁছানোয় শেষ দিনে আদৌ সঠিক সময়ে বাড়িতে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অপেক্ষারত সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
স্টেশনের সার্বিক চিত্র ও যাত্রীদের ভোগান্তি
আজ বুধবার সকালে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুর সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, কয়েক শ যাত্রী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেনের কোনো দেখা না পেয়ে এবং প্ল্যাটফর্মে বসার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক যাত্রীকে মেঝেতে কাপড় বিছিয়ে কিংবা ব্যাগের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়তে দেখা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা যাত্রী রবিউল ইসলাম জানান, রাস্তায় তীব্র যানজটের আশঙ্কায় তিনি বাসে যাতায়াত না করে ট্রেনে স্বস্তিতে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নীলফামারী জেলার ডোমার যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভোর চারটার দিকেই তিনি কমলাপুর স্টেশনে এসে পৌঁছান, যেখানে ট্রেনটি ঢাকা ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ৬টা ৪৫ মিনিট। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তিনি স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় বসে আছেন। একইভাবে রংপুরগামী যাত্রী লিমা আক্তার তাঁর স্বামী মুমিনুর রহমান, মা সালমা আক্তার এবং ছোট ভাই সিয়ামকে নিয়ে ভোর চারটা থেকে স্টেশনে এসে ট্রেনের দেখা পাননি। দীর্ঘ সময় ধরে কোলের শিশুকে নিয়ে প্ল্যাটফর্মে বসে থাকায় তাঁদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
একতা এক্সপ্রেসের সময় পরিবর্তন
নীলসাগর এক্সপ্রেসের পাশাপাশি ঢাকা থেকে পঞ্চগড় রুটে চলাচলকারী ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সময়সূচিতেও কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ট্রেনটি সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও স্টেশনের ডিজিটাল তথ্যপ্রদর্শনী বোর্ডে ট্রেনটির সম্ভাব্য প্রস্থান সময় পিছিয়ে বেলা ১১টা নির্ধারণ করা হয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও বিলম্বের কারণ
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ কবীর উদ্দীন ট্রেনের এই বিলম্বের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান যে, গতকালই নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরি করেছিল। তাছাড়া ঈদের অতিরিক্ত যাত্রী এবং ছাদে অতিরিক্ত মানুষের চাপের কারণে ট্রেনটিকে স্বাভাবিক গতির চেয়ে অনেক কম গতিতে যাতায়াত করতে হয়েছে। ফিরতি পথে এই অতিরিক্ত সময় লাগার কারণেই আজকে ট্রেনটির ঢাকায় পৌঁছাতে এবং পুনরায় ছেড়ে যেতে আরও বেশি বিলম্ব হচ্ছে। অপরদিকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটির ক্ষেত্রে বিলম্বের সময় মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিচে আজ বুধবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে বিলম্বিত হওয়া ট্রেন দুটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ট্রেনের নাম | গন্তব্যস্থল | মূল নির্ধারিত সময় | পরিবর্তিত সম্ভাব্য সময় | বিলম্বের প্রধান কারণ |
| নীলসাগর এক্সপ্রেস | চিলাহাটি | সকাল ০৬:৪৫ মিনিট | চার ঘণ্টার বেশি বিলম্ব | আগের দিনের বিলম্ব এবং অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে গতি হ্রাস। |
| একতা এক্সপ্রেস | পঞ্চগড় | সকাল ১০:১৫ মিনিট | বেলা ১১:০০ মিনিট | প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিটের পরিচালনগত বিলম্ব। |
ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে এসে ট্রেনের এমন সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছে। তবে দূরপাল্লার যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি উৎসবের আনন্দকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে।