খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬
দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) ঝুলিতে এসেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) কাঙ্ক্ষিত শিরোপা। দলের এই ঐতিহাসিক জয়ে ট্রফি খরা কাটানোর পাশাপাশি ফাইনাল ম্যাচে অপরাজিত ৭৫ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে জয়ের মূল ভিত্তি গড়ে দেন তারকা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি নিজের দীর্ঘদিনের অনুভূতি, ব্যাটিং মানসিকতার পরিবর্তন এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বিরাট কোহলি জানান, এই মুহূর্তটি তার বহু বছরের লালিত স্বপ্ন ছিল। ক্যারিয়ারে বহুবার তিনি কল্পনা করেছেন যে, ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে অপরাজিত থেকে নিজে জয়সূচক রানটি নিয়ে মাঠ ছাড়বেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ায় তিনি অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে পুরো মৌসুমে দলের ভারসাম্য এবং বিভিন্ন ক্রিকেটারদের একক প্রচেষ্টায় ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতাই তাকে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের গতিশীলতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে নিজের ব্যাটিংয়ে কিছু পরিবর্তন এনেছেন বলে জানান কোহলি। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে অত্যন্ত তরুণ এবং আক্রমণাত্মক ঘরানার খেলোয়াড়দের আগমন ঘটছে, যা সিনিয়র ক্রিকেটারদেরও নিজেদের খেলার ধরন উন্নত করতে এবং প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখতে বাধ্য করছে।
যদিও কোহলি তার বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো ক্রিকেটারের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তার এই মন্তব্যটি বৈভব সূর্যবংশীর মতো উদীয়মান ও আক্রমণাত্মক তরুণ ক্রিকেটারদের দিকেই ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে। কোহলি স্পষ্ট করেন যে, তিনি তার খেলায় বড় কোনো টেকনিক্যাল পরিবর্তন করেননি, বরং মানসিকতায় পরিবর্তন এনেছেন। ইনিংসের শুরু থেকেই বেশি স্ট্রাইক রেটে রান তোলার মানসিকতা নিয়ে তিনি এবার মাঠে নেমেছিলেন।
বিগত মৌসুমগুলোতে আরসিবি নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল—এমন একটি ধারণা প্রচলিত থাকলেও এবার চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। কোহলি দলের এই যৌথ পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন। টুর্নামেন্টে দলের ধারাবাহিকতার একটি পরিসংখ্যান নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ ও পরিসংখ্যান |
| টুর্নামেন্টের প্রথম ১০ ম্যাচ | প্রথম ১০টি ম্যাচের মধ্যে ৮ জন ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড় ‘ম্যাচ সেরা’ (Man of the Match) নির্বাচিত হন। |
| নির্ভরশীলতার পরিবর্তন | দলটি আর একক কোনো খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং সম্মিলিত শক্তির বহিঃপ্রকাশ। |
| বোলিং ইউনিটের ভূমিকা | বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি সফলভাবে সামলানোর সক্ষমতা। |
| পরিকল্পনা বাস্তবায়ন | পরিষ্কার রোডম্যাপ এবং বড় ম্যাচে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঠিক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ। |
| চাপের তারতম্য | পূর্ববর্তী মৌসুমগুলোর তুলনায় এবার দলের ওপর মানসিক চাপ অনেকটাই কম ছিল। |
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সাফল্যের পেছনে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সমর্থকদের অবদানকে অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিরাট কোহলি। তিনি বলেন, শুধু ঘরের মাঠ (হোম গ্রাউন্ড) চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামই নয়, বরং প্রতিপক্ষের হোম গ্রাউন্ডেও বিপুল সংখ্যক সমর্থক গ্যালারিতে উপস্থিত হয়ে আরসিবিকে অকুণ্ঠ সমর্থন জুগিয়েছেন। সমর্থকদের এই অবিচল ভালোবাসা ও উপস্থিতি পুরো টুর্নামেন্টে দলকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে এবং শিরোপা জয়ের পথকে সুগম করেছে।