খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ঢাকার সাভারে একটি মাদক মামলার আদালত কর্তৃক পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করার অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে আসামির সহযোগীদের অতর্কিত আক্রমণের শিকার হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। হামলার সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের লাঠিসোঁটা ও ইট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে এবং লোহার হাতকড়া পরানোর মূহূর্তে আসামিকে জোরপূর্বক ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে আটটার দিকে সাভারের বক্তারপুর নামক এলাকায় এই দুর্ধর্ষ ঘটনাটি ঘটে। হামলায় আহত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওই দুই সদস্যকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আহত হওয়া ওই দুই পুলিশ সদস্য হলেন সাভার মডেল থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক এস এম শামীম এবং সহকারী উপপরিদর্শক মশিউর রহমান খান। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপপরিদর্শক এস এম শামীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে একটি মাদক মামলার ওয়ারেন্ট বা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি রফিকুল ইসলামকে আইনের আওতায় আনতে তিনি এবং সহকারী উপপরিদর্শক মশিউর রহমান খান বক্তারপুর এলাকায় যান। সেখানে ছদ্মবেশে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করার পর রাত সাড়ে সাতটার দিকে তারা অভিযুক্ত আসামি রফিকুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে গ্রেপ্তার করেন।
অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ কর্মকর্তার বর্ণনা অনুযায়ী, রফিকুলকে আটক করার পর যখন তার দুই হাত এক করে লোহার হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই রফিকুল ইসলাম উচ্চস্বরে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা তার সহযোগীরা লাঠি এবং ইটপাটকেল নিয়ে পুলিশের ওপর আচমকা হামলা চালায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে রফিকুলের পক্ষে আরও বেশ কিছু স্থানীয় লোক জড়ো হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ উগ্র দল দুই পুলিশ সদস্যকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা দুই পুলিশ সদস্যকে রক্তাক্ত জখম করে তাদের হেফাজত থেকে আসামি রফিকুল ইসলামকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে অন্ধকারের মধ্যে আত্মগোপন করে।
এই ঘটনার প্রধান পক্ষসমূহ এবং সার্বিক পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও ঘটনা | ব্যক্তি ও পদের নাম | বর্তমান অবস্থা ও গৃহীত আইনি পদক্ষেপ |
| ১ | আহত প্রথম পুলিশ কর্মকর্তা | এস এম শামীম (উপপরিদর্শক) | সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন |
| ২ | আহত দ্বিতীয় পুলিশ কর্মকর্তা | মশিউর রহমান খান (সহকারী উপপরিদর্শক) | সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন |
| ৩ | পলাতক ও ছিনতাইকৃত আসামি | রফিকুল ইসলাম (মাদক মামলার আসামি) | পুলিশকে পিটিয়ে ছিনতাই করা হয়েছে, বর্তমানে পলাতক |
| ৪ | আক্রমণকারী সঙ্ঘবদ্ধ দল | রফিকুলের সহযোগী ও স্থানীয় দুষ্কৃতকারী | আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলমান |
| ৫ | বর্তমান আইনি পরিস্থিতি | সাভার মডেল থানা পুলিশ | মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এবং আসামিদের ধরতে বিশেষ অভিযান |
সরকারি কর্তব্যে বাধা প্রদান ও সতীর্থদের ওপর হামলার খবর পেয়ে বক্তারপুর এলাকার কাছাকাছি টহলরত সাভার মডেল থানার পুলিশের আরেকটি বিশেষ দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা সেখান থেকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উপপরিদর্শক শামীম ও সহকারী উপপরিদর্শক মশিউরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে পুলিশের অতিরিক্ত এই দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মূল অপরাধী রফিকুল এবং তার আক্রমণকারী সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ফারদিন আবদুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে জানান, গতকাল রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে আহত অবস্থায় দুই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসাকালীন পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাত এবং ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের সুনির্দিষ্ট চিহ্ন রয়েছে। তাদের ক্ষতস্থানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করে হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, আদালতের পরোয়ানাভুক্ত একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আমাদের দুজন নির্ভীক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এই জঘন্য ও ধৃষ্টতাপূর্ণ হামলার ঘটনায় সাভার মডেল থানায় সরকারি কাজে বাধা দান, পুলিশকে জখম ও আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করার আইনি প্রক্রিয়া সচল রয়েছে। পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ আরও দৃঢ়তার সাথে জানান যে, ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকা প্রতিটি অপরাধীকে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশের একাধিক বিশেষ দল বর্তমানে এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে।