খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
যশোরের শার্শা উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের ছোট বসন্তপুর গ্রামে গত শনিবার দিবাগত রাতে এই অপরাধ সংঘটিত হয়। এই ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ গত রবিবার, ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে পাঁচ যুবকের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে তাঁর নিজ ঘর থেকে বাইরে বের হন। এই সুযোগে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা স্থানীয় পাঁচ যুবক দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করে ফেলে। অপরাধীরা ভুক্তভোগীকে চিৎকার করতে বাধা দেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে আসামিরা পর্যায়ক্রমে ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ধর্ষণের শিকার ওই নারী রবিবার শার্শা থানায় উপস্থিত হয়ে পাঁচজনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন, যা পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তৎপরতা শুরু করে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। আজ সোমবার গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বিবরণ ও বর্তমান আইনগত অবস্থা নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| আসামির নাম | বয়স | গ্রাম/ঠিকানা | বর্তমান অবস্থা |
| হাসিব আল হাসান | ১৯ বছর | চান্দুড়িয়ার ঘোপ, নিজামপুর | গ্রেপ্তারকৃত (আদালতে সোপর্দ) |
| আব্দুর রহমান ইমন | ২২ বছর | ছোট বসন্তপুর, নিজামপুর | গ্রেপ্তারকৃত (আদালতে সোপর্দ) |
| মেহেদি হাসান টুটুল | ২৩ বছর | ছোট বসন্তপুর, নিজামপুর | গ্রেপ্তারকৃত (আদালতে সোপর্দ) |
| আব্দুল্লাহ আল মামুন | ২৪ বছর | সংশ্লিষ্ট এলাকা | পলাতক (অভিযান অব্যাহত) |
| ইমন | ২৩ বছর | সংশ্লিষ্ট এলাকা | পলাতক (অভিযান অব্যাহত) |
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের আইনের আওতায় আনতে দ্রুততম সময়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং এজাহারভুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার বাকি দুই আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে। অপরাধীদের বিষয়ে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।