খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনার আবহের মধ্যেই বাংলাদেশের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের শৃঙ্খলা রক্ষায় এক বড় ধাক্কা লেগেছে। মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত চার জাতি টুর্নামেন্টে স্বাগতিক দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে মারামারি এবং ম্যাচ অফিশিয়ালদের সাথে অসদাচরণের দায়ে বাংলাদেশের ফুটবলার ও টিম ম্যানেজারকে আর্থিক জরিমানা করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার ডিসিপ্লিনারি কমিটি সম্প্রতি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) চিঠির মাধ্যমে শাস্তির এই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তটি অবহিত করেছে।
জুন ফিফা উইন্ডো চলাকালীন বাংলাদেশ জাতীয় দল যখন সান মারিনোতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছিল, ঠিক একই সময়ে মালদ্বীপে আয়োজিত চার জাতি টুর্নামেন্টে অংশ নেয় বাংলাদেশ অলিম্পিক ফুটবল দল। টুর্নামেন্টটি ফিফা স্বীকৃত এবং অফিশিয়াল উইন্ডোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এর সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার পূর্ণ এখতিয়ার ছিল ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটির ওপর।
প্রতিযোগিতায় নিজেদের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও স্বাগতিক মালদ্বীপ। ম্যাচ চলাকালীন এবং ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়, যা একপর্যায়ে শারীরিক সংঘর্ষ ও মারামারিতে রূপ নেয়। মাঠের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে স্বাগতিক মালদ্বীপের ফুটবলাররা অত্যন্ত মারমুখী আচরণ প্রদর্শন করেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক আঘাতও করেন। তবে এর বিপরীতে বাংলাদেশের ফুটবলার মিরাজুল ইসলাম ও আল আমিন ম্যাচ রেফারি এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে চরম অসদাচরণে লিপ্ত হন। ম্যাচ শেষে দায়িত্বরত ম্যাচ কমিশনার মাঠে ঘটে যাওয়া ঘটনার একটি বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেন।
ম্যাচ কমিশনারের দেওয়া সেই আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই ও পর্যালোচনা শেষে ফিফা বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলার মিরাজুল ইসলাম এবং দলের ম্যানেজার শাহীন হাসানকে কয়েকশ’ সুইস ফ্রাঁ আর্থিক জরিমানা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সাথে বাংলাদেশের আরেক ফুটবলার আল আমিনের মাঠের আচরণকেও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে ফিফা। তাঁর বিষয়টি বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ এই সংস্থার কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এদিকে, বাফুফে সম্প্রতি ফিফার পক্ষ থেকে শাস্তিসংক্রান্ত এই নির্দেশনামূলক চিঠিটি বুঝে পেয়েছে। ম্যাচে স্বাগতিক মালদ্বীপের ফুটবলারদের কর্মকাণ্ডও সম্পূর্ণরূপে ফুটবলীয় শৃঙ্খলা ও আচরণের পরিপন্থী ছিল। তবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মালদ্বীপ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা দেশটির কোনো নির্দিষ্ট ফুটবলার ফিফা কর্তৃক কোনো শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন কি না, সে বিষয়টি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এখনো নিশ্চিতভাবে জানতে পারেনি।
মালদ্বীপে সংঘটিত এই অনভিপ্রেত ও বিশৃঙ্খল ঘটনার মূল কারণ উদ্ঘাটন এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নিজস্ব উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বাফুফের নবগঠিত এই তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে জানান, ‘মালদ্বীপে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফিফা আমাদের একটি চিঠি পাঠিয়েছে। আমরা পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করছি। তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আমরা আমাদের সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’
মালদ্বীপের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পাশাপাশি ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও বাংলাদেশের ফুটবলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের আরেকটি পৃথক অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে নারী সাফের এই ঘটনাটি কোনো কোচ কিংবা নারী ফুটবলারের বিরুদ্ধে নয়, বরং জাতীয় নারী দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমীর বিরুদ্ধে উঠেছে। টুর্নামেন্ট চলাকালেই ম্যানেজার নওমীর আচরণগত শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি উল্লেখ করে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) বাফুফেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রেরণ করেছিল। ভারতের সেই টুর্নামেন্টটি শেষ হওয়ার পর সাফের পাঠানো ওই অভিযোগপত্রটিকে কেন্দ্র করে বাফুফে তিন সদস্যের আরেকটি নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দেশের ফুটবলকে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কহীন ও সুশৃঙ্খল রাখতে উভয় কমিটির তদন্তের ওপর এখন বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।